পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হওয়ায় আজ সোমবার (১ জুন) থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর কর্মজীবী মানুষও নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরছেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি কার্যকর ছিল। ছুটির সময় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ছুটি শেষে তারা আবার ঢাকাসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন।
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ বেড়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। রোববারও রাজধানীতে ফিরেছেন অনেক যাত্রী। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চলাচল এবং মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম কর্মচাঞ্চল্য দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক কর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কুশলাদি বিনিময়ে সময় কাটাতে পারেন।
গত ২৮ মে দেশে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে প্রথমে ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হলেও যাতায়াত সহজ করতে নির্বাহী আদেশে আরও একদিন যুক্ত করে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে ব্যাংক, বিমা ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ছুটি ভোগ করেন।
ছুটির অংশ হিসেবে ২৮ মে ছিল ঈদুল আজহার সাধারণ ছুটি। এছাড়া ঈদের আগে ২৬ ও ২৭ মে এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি কার্যকর ছিল। এ ছুটির সমন্বয়ে দীর্ঘ বিরতির সুযোগ পান চাকরিজীবীরা। তবে ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ২৩ মে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও অনেক সরকারি কর্মচারী অফিস করেন।
অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাকসেবাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা ছুটির আওতার বাইরে ছিল। এছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহনও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
কালের সমাজ/ওজি

