ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের ‘ভালো বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অতীতে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি সুবিধা পেলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে, বরং আমেরিকাই লাভবান হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শিগগিরই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভারতের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও অত্যন্ত ভালো বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ সময় ভারত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে ভারতসহ কয়েকটি দেশ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি; বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা ও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফর করে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে। ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উভয় দেশ এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী, যা পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করবে এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীও ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কেবল কয়েকটি কারিগরি ও আনুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের বিভিন্ন উদ্যোগও দেখা গেছে।
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কেবল অর্থনৈতিক কারণ নয়, কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিবেচনাও ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। সেই বাস্তবতায় ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইতিবাচক মন্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশাবাদের জন্ম দিয়েছে। সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস
কালের সমাজ/এএইচবি

