ফুটবল খেলা ঘিরে রণক্ষেত্র ভৈরব দুই গ্রামবাসীর তাণ্ডব, স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষ ভাঙচুর-অবরোধ কাটিয়ে অবশেষে ৫ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ট্রেন চলাচল।
জানা যায়, ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামের বিরোধের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল ৫ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। রেলভবন সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় অবরোধ থাকার পর রাত ১টা ৫০ মিনিটের ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
লম্বা সময় ট্রেন বন্ধ থাকায় প্রচন্ড গরমে সব চেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নারী-শিশুদের। যাত্রীদের প্রশ্ন ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ দুই গ্রামের, কিন্তু তার জেরে রেলপথ বন্ধ থাকবে কেন? কেনই বা ভাঙচুর হবে স্টেশন মাস্টারের কক্ষ?
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি গ্রামবাসীর মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এসময় রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দখল করে স্টেশন মাস্টারের রুম ভাঙচুরসহ কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিসাধন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত রেলস্টেশন এলাকার আশপাশে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের এস আই সাইফুল ইসলাম ও আরএনবি সদস্য মুছা মিয়া গুরুতর আহত হন। অন্য আহতদের পরিচয় জানা যায়নি, তবে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এসময় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন পার্শ্ববর্তী স্টেশনে আটকা পড়ে। আটকেপড়া ঢাকাগামী মহানগর প্রভাতি ও গোধূলি, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারো সিন্ধুর এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশসহ থানা পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আটকেপড়া ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুরো স্টেশন এলাকা রণক্ষেত্র পরিণত হয়, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ১টা ৫০ মিনিটে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরব স্টেশন ছেড়ে যায়। আটকেপড়া সব ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাঈদ আহমেদ জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। স্টেশন এলাকার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।
কালের সমাজ/এএইচবি

