বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং মাঠের বাইরের একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন দলটির তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয় নানা সমালোচনা। তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সান্তোসের এই তারকা ফুটবলার।
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর অবকাশে যান নেইমার। ছুটির সময় তিনি ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তিনি কি পোকারকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন, নাকি ভবিষ্যতে ফুটবল ছাড়ার পর এ খেলাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান।
সমালোচনা আরও জোরালো হয় যখন পোকার চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় দিনেও তাকে টেবিলে দেখা যায়। একই সময়ে কোপা সুদামেরিকানায় মাঠে খেলছিল তার ক্লাব সান্তোস। দলের অধিনায়ক হয়েও ম্যাচে উপস্থিত না থেকে পোকার খেলায় অংশ নেয়ায় অনেকেই তার পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এসব সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে নেইমার জানান, তিনি দায়িত্বে কোনো অবহেলা করেননি। তার ভাষ্য, পোকার খেলতে যাওয়ার আগে সকালে তিনি অনুশীলন করেছেন এবং পরে আবার ট্রেনিংয়ে ফিরেছেন। মাঝের দিনটি ছিল তার নির্ধারিত ছুটি। তাই সেই সময় কী করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।
সমালোচকদের উদ্দেশে নেইমার বলেন, আমি এখানে দ্বিতীয় ট্রেনিং সেশনে কাজ করছি। কিন্তু দেখলাম, ছুটির দিনে আমি কেন পোকার খেলেছি, সেটি নিয়েই এত আলোচনা হচ্ছে। সকালে অনুশীলন করেছি, যদিও ম্যাচে যাইনি। এখন আবার অনুশীলনে ফিরে এসেছি। মাঝের দিনটি ছিল আমার ছুটি। আমি কি অনুশীলন চালিয়ে যাব, নাকি তোমরা শুধু সমালোচনাই করবে? এসব বাদ দিয়ে নিজেদের চরকায় তেল দাও।
পোকারের সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই খেলার প্রতি আগ্রহী। ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপের আগের আসরেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সে প্রতিযোগিতায় ৩৪৬ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ২৯তম স্থান অর্জন করেছিলেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড।
এদিকে মাঠের প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। সান্তোসের কোচ নিশ্চিত করেছেন, ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রোববার শাপেকোয়েনসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আবার মাঠে ফিরবেন দলের অধিনায়ক। ফলে সমালোচনার মধ্যেও ফুটবলে নিজের মনোযোগ অটুট রাখার বার্তাই দিলেন ব্রাজিলের অন্যতম সেরা এই তারকা।
কালের সমাজ/এসআর

