অনিন্দ্য সুন্দর পাখি ‘জর ময়ূর’। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাখি। লম্বালেজী দৃষ্টিনন্দন পাখিটি বাংলাদেশ বেশ দুর্লভ। জল ময়ূরের ইংরেজি নাম : চযবধংধহঃ-ঃধরষবফ লধপধহধ এবং বৈজ্ঞানিক নাম : ঐুফৎড়ঢ়যধংরধহঁং ঈযরৎঁৎমঁং। এটি নেউ, নেউপিপি, পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত।
জল ময়ূর হাওর, বিল, বাড়ও, হ্রদ এবং মিঠাপানির জলাভূমিতে বাস করে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই এই পাখিটিকে দেখা যায়। সম্প্রতি সম্প্রতি মাগুরার শালিখা উপজেলার সিংড়া এলাকার পাটভাড়ার বিলে জল ময়ূর পাখির দেখা মিলেছে। ভাসমান পাতার ওপর হেঁটে হেঁটে জলজ উদ্ভিদে থাকা পোকা-মাকড় ও অমেরদন্ডী প্রাণী, জলজ উদ্ভিদের কচি পাতা, অঙ্কুর ও বীজ খায়।
প্রজননকালে জল ময়ূূর অত্যন্ত সুন্দর হয়ে ওঠে। প্রজননকারী পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালক সাদা থাকে। ঘাড় সোনালি-হলুদ, পিঠ গাঢ় বাদামি, বুক-পেট কালচে-বাদামি ও লেজ কালচে হয়। একটি কালচে-খয়েরি রেখা মাথা, ঘাড়-গলার সাদা ও সোনালি-হলুদ রংকে পৃথক করেছে। ঠোঁট নীলচে হয়। চোখ বাদামি ও পা নীলাভ-কালো।
স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। প্রজননকালে পুরুষ শাপলা ও পদ্মপাতা বা এ জাতীয় ভাসমান কোনো উদ্ভিদের পাতার ওপর বাসা বানায়। স্ত্রী এতে চারটি জলপাই-বাদামি চকচকে ডিম পেড়ে চলে যায়। পুরুষ একাই ডিমে ২৩ থেকে ২৬ দিন তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটতে, সাঁতরাতে ও ডুব দিতে পারে। প্রায় দুই মাস পর্যন্ত বাবার তত্ত্বাবধানে থাকে।
কালের সমাজ/কে.পি

