ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নাঙ্গলকোটে মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম নাঙ্গলকোটে মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার বিশারা-খান্নাপাড়া এলাকায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রে এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির শিক্ষক ও পরিচালক মাওলানা মাহবুবুল হক হেলালীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে কক্ষটিতে পড়ানোর টেবিল-চেয়ারের পাশাপাশি একটি খাট রয়েছে। এছাড়া কক্ষটির একাংশে ধান ও বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়। 

শিশুদের নিয়মিত পাঠদানের স্থান হিসেবে এমন পরিবেশ কতটা উপযোগী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ও শিশুটির পরিবারের অভিযোগ,বিশারা-খান্নাপাড়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্র পরিচালনা করেন মৃত মোকছেদুর রহমানের ছেলে মাওলানা মাহবুবুল হক হেলালী। কেন্দ্রে নিয়মিত প্রায় ১০ থেকে ১২ জন শিশু পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে। বুধবার  সকালে ওই শিশুকে তার বোনসহ মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রে নিয়ে যান মাওলানা মাহবুবুল হক হেলালী। ওই সময় কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিশুদের পড়াশোনার পরিবর্তে মোবাইল ফোনে খেলা দেখানো হচ্ছিল। এ সময় অন্যদের আড়ালে শিশুটিকে নিয়ে কক্ষে অবস্থান করেন ওই শিক্ষক। পরে শিশুটির কান্নাকাটির ঘটনায় বিষয়টি জানাজানি হয়। শিশুটির বোন সামিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বোন কান্নাকাটি শুরু করলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। 

পরে বোনকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বোনকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্রের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারাও শিশুটির কান্নাকাটি এবং এ ঘটনাটি সত্য বলে জানান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে যথাযথ নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। মাওলানা মাহবুবুল হক হেলালীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ দেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা মাহবুবুল হেলালীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি।

এরপর তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। ইসলামী ফাউন্ডেশন ফিল্ড সুপারভাইজার ওবায়দুল হক তারেক বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। কেন্দ্রের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রের পরিবেশ ভালো নয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনূর ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!