কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ছোট ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়েও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশে জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগুনের ঝুঁকি এড়াতে মেরিন ড্রাইভের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলাকালে মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর থেকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করলেও ভূগর্ভ থেকে অব্যাহতভাবে গ্যাস নির্গত হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে বাপেক্স
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি—বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল। গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি নির্ধারণে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভ থেকে গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকা অবস্থায় তাড়াহুড়া করে আগুন নেভানো কিংবা গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গ্যাস অন্য স্থান দিয়ে বেরিয়ে এলে নতুন করে অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ।আগুনের শিখা ও তাপের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভোগান্তিতে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় ২০০ মিটার এলাকায় সতর্কতা।সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে আগুনের উৎসস্থলের আশপাশে অন্তত ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক জনতাকে ঘটনাস্থলে ভিড় না করতে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে, আগুন কত দিন জ্বলতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগুন আরও কয়েক দিন জ্বলতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গ্যাসের প্রকৃতি ও নির্গমনের কারণ সম্পর্কে পরীক্ষার ফলাফল প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জননিরাপত্তাই এখন প্রধান বিবেচ্য। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকা, আগুনের কাছে ভিড় না করা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসের উৎস শনাক্ত করে নিরাপদ সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কালের সমাজ/কে.পি

