ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

জমে উঠেছে মহম্মদপুরের ঐতিহ্যবাহী সুপারির হাট

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম জমে উঠেছে মহম্মদপুরের ঐতিহ্যবাহী সুপারির হাট

পুবের আকাশে রোদ ওঠার সাথে সাথেই মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর বাজার রূপ নেয় এক অন্যরকম কর্মচাঞ্চল্যে। শত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে চলা এ অঞ্চলের এই প্রাচীন সুপারির হাট এখন সুপারির ভরা মৌসুমে হয়ে উঠেছে জমজমাট। বাগান মালিক, স্থানীয় চাষী, খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী ধরে সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার রাজাপুরে এই সুপারির হাট বসে আসছে। মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর, রাহাতপুর, ঝগড়দিযয়, নিত্যান্দপুর, গোবরনাদা, কলমধারী, নাওভাঙ্গা, রাড়িখালী, রাজপাট, বনগ্রাম এবং মাগুরা সদর উপজেলার পুটিয়া, শিয়ালজোড়, বাটাজোড়, জোকা, মনিরামপুর ও দিঘলকান্দিসহ অন্তত ২০টি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ তাদের উৎপাদিত সুপারি বিক্রি করতে এই হাটে আসেন।
মাগুরা জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জমিতে প্রচুর সুপারি গাছ রয়েছে। পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা এবং বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই সুপারি বিক্রির অর্থের ওপর নির্ভর করেন অনেক পরিবার। ফলে সুপারি এখন এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও আর্থিক সচ্ছলতার অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
প্রতি হাটে এখানে প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার থেকে দুই লাখ ২০ হাজার সুপারি কেনাবেচা হয়ে থাকে। আকার ও মানভেদে প্রতি হাজার সুপারি এক হাজার ৩৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সুপারি ‘কুড়ি’ হিসেবেও হিসাব করা হয়, যেখানে প্রতি কুড়িতে ২২০টি সুপারি থাকে এবং মানভেদে দাম ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে প্রতি হাটে এখানে লক্ষাধিক টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়ে থাকে।
মহম্মদপুরের কলমধারী গ্রামের দীর্ঘদিনের সুপারি বিক্রেতা মো. রজব আলী জানান, বহু বছর ধরে তিনি এই হাটে সুপারি বিক্রি করে আসছেন এবং এ বছর সুপারির দামও বেশ সন্তোষজনক।
এই হাট থেকে সুপারি ক্রয় করেন ৩৫ থেকে ৪০ জন ব্যাপারী। মো. আশরাফুল আলম পাইলট নামের এক পাইকারি ব্যাপারী জানান, এখানকার মানসম্মত সুপারি কিনে তারা ঢাকা, নড়াইল, যশোর, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান করেন।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি আর পাইকারদের বড় বড় বস্তা ভরা সুপারি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক গতিশীলতা এনে দিয়েছে।
শত বছরের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে রাজাপুরের এই সুপারির হাট শুধু একটি কেনাবেচার স্থানই নয়, এটি মাগুরার গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতি সচল রাখার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাত জাহান শিলু বলেন, “সুপারি, আমাদের এই এলাকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক ফসল। এখানকার সুপারির মান বেশ ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর বেশ চাহিদা রয়েছে।”
কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!