ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ১৬০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ১৬০

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশ মিলিয়ে আট শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলায় এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ২৮টি দেশের ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১১৩ জন নেপালি নাগরিকের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৫৪ জন মার্কিন এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্যোগের পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট হিমবাহধস থেকেই ভয়াবহ এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে পানির প্রবল স্রোত লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্যোগের প্রভাব সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অংশেও পড়েছে।

তিনি জানান, নেপাল ও চীন যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীরও বেশ কয়েকজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তারও সন্ধান মিলছে না।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে নেপাল সেনাবাহিনী বিমান বাহিনীর সদস্য ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। দুর্গত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পাশাপাশি আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

নেপাল সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর এটি দেশটির সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হতে পারে।

ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জনপদগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বন্যার পানির স্রোতে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি সড়ক, একাধিক প্রধান সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতেও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

Link copied!