ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ৫ লাখের বেশি সেনা নিহত

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:০১ এএম ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ৫ লাখের বেশি সেনা নিহত

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির ৫ লাখের বেশি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান তিনি।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার মোট সেনা হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখ। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। যুক্তরাজ্যের দেয়া এই হিসাব ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত সংখ্যার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। তবে রাশিয়ার কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, বড় আকারের সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে খুব বেশি অগ্রসর হতে পারছে না। চলতি বছরে রাশিয়ার অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

নাইটন সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারিয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়াযান, প্রায় ৩ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। তবে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতি কত, সে বিষয়ে কোনো সংখ্যা জানাননি তিনি। এপি বলছে, মস্কো ও কিয়েভ কেউই নিয়মিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে না।

কিয়েভে গ্যাস স্টেশনে রুশ ড্রোন হামলা
এদিকে শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সড়কের পাশে থাকা গ্যাস স্টেশনগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় উকর্নফতার দুটি গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের শহরাঞ্চলের গ্যাস স্টেশনগুলোতে রুশ হামলা বেড়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের সম্মুখসারির কাছাকাছি এলাকায় এসব হামলা বেশি হয়েছে। হামলা হয়েছে খাদ্য বিতরণকেন্দ্রেও। রাশিয়ার আগ্রাসন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করায় ইউক্রেন দ্রুত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার দেশটিকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কানাডা।

মধ্য ইউক্রেনের পাভলোহরাদ শহরে শুক্রবার শোক দিবস পালন করা হয়। এর আগের দিন বিপণিবিতানের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় শহরটির পাঁচ বাসিন্দা নিহত হন। ওই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৭ জন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় রাতভর রুশ ড্রোন হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা।

৭৭৭ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এতে দেশটির বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সাইবেরিয়ায় ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই এসব হামলার লক্ষ্য।

ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে কিয়েভ। জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন বায়ু গবেষণাকেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রপ্তানি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ঘাটতি কমাতে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি করছে মস্কো।

এপির খবরে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেন বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ১৬টি রুশ অঞ্চলের পাশাপাশি দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের জলসীমায় ৭৭৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

শুক্রবার দেশটির স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, মস্কোর দক্ষিণে তুলা অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম আস্ত্রা। কিয়েভ এর আগেও এই শোধনাগারটিতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলা হয়েছিল আগস্টের শুরুতে।

অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওজন’ জানিয়েছে, একই শহরে তাদের একটি পণ্য পরিবহনকেন্দ্রেও ড্রোন হামলা হয়েছে এবং হামলার ফলে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেন এর আগে ওজনের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাতভর দূরপাল্লার হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে রাশিয়ার আটটি অঞ্চলকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুক্রবার দেয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে দেয়া।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!