ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

গ্রেট পিরামিডে মিলল রহস্যময় ‘গাণিতিক কোড’

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:০৪ এএম গ্রেট পিরামিডে মিলল রহস্যময় ‘গাণিতিক কোড’

মিশরের গিজার গ্রেট পিরামিডের গায়ে কোনো লিখিত বার্তা না থাকলেও এর কাঠামোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে একটি ‘গাণিতিক কোড’; এমনই দাবি করেছেন স্বাধীন গবেষক সেফি লেভি। তার মতে, পিরামিডের উচ্চতা, ভিত্তি, ঢাল ও সামগ্রিক আকৃতির নির্দিষ্ট অনুপাত প্রাচীন মিশরীয়দের গণিত, সময় ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। প্রতিবেদন মেট্রোর।

চার হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে গিজার গ্রেট পিরামিড প্রত্নতাত্ত্বিক ও বিজ্ঞানীদের কাছে এক বিস্ময়ের বিষয়। কীভাবে এবং কেন এত বিশাল স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও নানা তত্ত্ব রয়েছে। এবার লেভির নতুন গবেষণা সেই রহস্যে আরও একটি সম্ভাবনার কথা সামনে এনেছে।

লেভির গবেষণাপত্রের নাম ‘দ্য পিরামিড অ্যাজ মেমোরি হাইপোথিসিস’। আগস্টে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি এখনও পিয়ার-রিভিউ হয়নি। সেখানে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, পিরামিডের বিভিন্ন ম্যাপকে প্রাচীন মিশরীয়দের ব্যবহৃত ভগ্নাংশের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করলে কিছু উল্লেখযোগ্য সংখ্যা পাওয়া যায়।

তার দাবি, এসব সংখ্যার কিছু চাঁদ, গ্রহ ও নক্ষত্রের বিভিন্ন চক্রের কাছাকাছি। অর্থাৎ, পিরামিডের নির্মাণে এমন কিছু গাণিতিক অনুপাত ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে, যার মাধ্যমে প্রাচীন মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

লেভির ভাষায়, পিরামিডকে চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্য শুধু এটি যেন টিকে থাকে তা নয়; বরং পিরামিড নিজেই একটি মূল্যবান জ্ঞানের ভাণ্ডার। তার তত্ত্ব অনুযায়ী, জ্ঞানকে লিখিত নথির পরিবর্তে পাথরের কাঠামোর মধ্যেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

লেভির বিশ্লেষণে একটি হিসাব থেকে প্রায় ২৭.৫ সংখ্যা পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এটি চাঁদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানে ফিরে আসার প্রায় ২৭.৫৫ দিনের চক্রের কাছাকাছি।

আরেকটি হিসাব থেকে তিনি ৭০ সংখ্যাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তার ধারণা, এটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সিরিয়ুসের আকাশে দৃশ্যমান ও সূর্যের আলোর কারণে অদৃশ্য থাকার সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

Aliens built pyramids is debatable. But a hidden Egyptian code inside Great  Pyramid of Giza‍‍`s measurements could reveal a cosmic secret from 4,500  years ago - The Economic Times

এ ছাড়া তার দাবি, পিরামিডের অন্যান্য অনুপাত থেকেও শুক্র ও বৃহস্পতির মতো গ্রহের পুনরাবৃত্তিমূলক চক্রের কাছাকাছি কিছু সংখ্যা পাওয়া যায়। পিরামিডের সামগ্রিক অনুপাতের মধ্যে ‘পাই’ এবং গোল্ডেন রেশিওর সঙ্গেও কিছু মিল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে এসব সংখ্যাগত মিল সত্যিই পরিকল্পিতভাবে পিরামিডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা প্রমাণিত নয়। গবেষণাটি এখনও পিয়ার-রিভিউ না হওয়ায় দাবিগুলোকে আপাতত একটি গবেষণামূলক তত্ত্ব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রাচীন মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সৃষ্টির আগে পৃথিবী ছিল ‘নুন’ নামে পরিচিত এক অন্ধকার ও অন্তহীন জলরাশিতে ঢাকা। সেই জলরাশি থেকে একটি পবিত্র ভূমির ঢিবি ‘বেনবেন’ উত্থিত হয়। এরপর সৃষ্টিকর্তা দেবতা আতুমের আবির্ভাব ঘটে বলে এই বিশ্বাসে বলা হয়। লেভির ধারণা, পিরামিডের আকৃতি হয়তো সেই আদিম পবিত্র ভূমির প্রতীকী পুনর্নির্মাণ হতে পারে।

আরও একটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন লেভি। তার মতে, পিরামিড হয়তো প্রাচীন মিশরীয়দের পূর্বপুরুষদের বসবাসের কোনো প্রাচীন ভূদৃশ্যের স্মৃতিও বহন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি পশ্চিম আফ্রিকার মৌরিতানিয়ায় অবস্থিত বিশাল বৃত্তাকার ভূপ্রকৃতি ‘আই অব দ্য সাহারা’র কথা উল্লেখ করেছেন।

তার অনুমান, ওই অঞ্চলে একসময় মানুষের বসতি থাকতে পারে। জলবায়ু ও পানির পরিবর্তনের কারণে মানুষ পূর্বদিকে নীল নদের দিকে চলে গেলে পরবর্তী প্রজন্ম তাদের প্রাচীন আবাসভূমির স্মৃতি ধরে রাখতে পিরামিড নির্মাণ করে থাকতে পারে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!