ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান, ভারতীয় মদতপুষ্ট ৭১ সন্ত্রাসী নিহত

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:২০ পিএম পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান, ভারতীয় মদতপুষ্ট ৭১ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশজুড়ে গত ৯৬ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানে ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ ৭১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এসব তথ্য জানিয়েছে। অবশ্য ইসলামাবাদের এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কাবুল ও নয়াদিল্লির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে ঢোকার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৮ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেছে আফগান বাহিনী। তবে আফগানিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ একে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে মন্তব্য করেছে।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোথাও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জড়িত থাকার দাবি পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেয়া কিংবা আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগও সম্পূর্ণ বানোয়াট।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। তবে ভারত ও আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পাকিস্তান বারবার আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের দমন করার আহ্বান জানিয়েছে। টিটিপি বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটির মাটি ব্যবহার করে টিটিপির সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর অনুমতি দেয়া হয় না বলেও জানিয়ে আসছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার বড় অংশই টিটিপি চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ বলে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, হামলাগুলো শুধু শনাক্ত করা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এসব স্থাপনা ড্রোন হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।

আফগান তালেবানের প্রতি পাকিস্তান অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ’ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!