ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
মানবতাবিরোধী অপরাধ

রামপুরার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, উঠে এলো মরণাস্ত্র ব্যবহারের বর্ণনা

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম রামপুরার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, উঠে এলো মরণাস্ত্র ব্যবহারের বর্ণনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতিদের সাক্ষরের পর ১৪৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে ওই ঘটনায় মরণাস্ত্র ব্যবহারের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, রামপুরায় ১৯ জুলাইয়ের (২০২৪ সালের) ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিবরণ হিসেবে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে এবং রামপুরা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশিউর রহমান কর্তৃক করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরা এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় রামপুরা থানা ও রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা চায়না রাইফেল, শর্টগান ও পিস্তল ব্যবহার করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন ব্যবহৃত গোলাবারুদের পরিমাণ ছিল— চায়না রাইফেল থেকে ৫৫৩ রাউন্ড গুলি, পিস্তল থেকে ২৮ রাউন্ড গুলি, শর্টগান থেকে ৩২৩ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং শর্টগান থেকে ৭৭১ রাউন্ড লেড (সীসা) বুলেট।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রামপুরা এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব প্রাণঘাতী ও কম-প্রাণঘাতী অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেন।

এর আগে গত ২৮ জুন এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক হাবিবর রহমান ছাড়াও সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও পলাতক সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও গ্রেফতার একমাত্র আসামি সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

গত ১৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।

এ মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!