জুলাই শহীদদের স্মরণে জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জুলাই জাতীয় সম্মেলন। সবার আগে বাংলাদেশ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে লেখা গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা ৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয় জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তা সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগ, গুলি, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে তাকে অন্যতম প্রথম শহীদ হিসেবে স্মরণ করা হয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। অন্যদিকে, জাতিসংঘের প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ৩৬ দিনের গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে। বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
গত ২৬ জুন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিজয় মিছিল, মৌন মিছিল, ছাত্র সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার, রক্তদান কর্মসূচি, গ্রাফিতি অঙ্কন, পথনাটক, ফুটবল টুর্নামেন্ট, শিশু অধিকারবিষয়ক অনুষ্ঠান এবং ডেঙ্গু ও করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ অন্তত ২২টি ভিন্নধর্মী আয়োজন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ২৯ জুন ঘোষিত এ কর্মসূচি ১ জুলাই শুরু হয়ে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এ সময় দলটির পদযাত্রা দেশের ৬৪টি জেলা পরিভ্রমণ করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত ২৮ জুন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি তুলে ধরেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের জন্য দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল, দরিদ্র, অসহায় ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ, শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মতবিনিময় সভা ও দোয়া মাহফিল। পাশাপাশি ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী গণমিছিলের কর্মসূচিও পালন করবে দলটি।
কালের সমাজ/এএইচবি

