ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রধানমন্ত্রী

সবাই মিলে চেষ্টা করলে বাংলাদেশকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম সবাই মিলে চেষ্টা করলে বাংলাদেশকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে বাংলাদেশকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখা সম্ভব। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ দেশ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ময়লা-আবর্জনা সঠিক উপায়ে অপসারণ ও ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে।

তিনি বলেন, তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই, যত্রতত্র আমাদের ব্যবহৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশ ভালো থাকবে, ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।

নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিন্তা করে দেখুন তো, আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারদিকে এমন ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে থাকত, যদি চারদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকত, আপনার কাছে কি ভালো লাগত দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারও কাছেই ভালো লাগত না।

তিনি বলেন, কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন- “সবুজ, শস্য-শ্যামলা আমার ভুবন”। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারব না?

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি, হয়তো কোনো একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভেতরে বিভিন্ন রকম ময়লার স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লার স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।

তিনি বলেন, আমরা যখন যাই, তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী তারা পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি, তখন আর সেটি আগের মতো পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকত, আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন, আপনার পরবর্তীতে যে যাবে, সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।

সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই, আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি, তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনামুক্ত করতে পারব। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব।

দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি, তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।

কালের সমাজ/এসআর

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!