বিএনপি সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কল্যাণে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো অল্প সময়ের। বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে গিয়ে সরকারের কাজের হিসাব দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেহেশতের লোভ দেখিয়ে নয়, বিদ্যুৎ-গ্যাস, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও খেলাধুলাসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেই জনগণের কাছে আবার ভোট চাইবে বিএনপি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বন্যায় দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্যার সময় ত্রাণের সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বরাদ্দ এনে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই আমি বাঁশখালীতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাঁশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার টেন্ডার হয়ে গেছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁশখালীর আরও যেসব রাস্তা সংস্কার বা নির্মাণ প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা দিলে তা মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাঁশখালীর ৫১০ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের আরও ৫৯০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়া, স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম।
কালের সমাজ/কে.পি

