২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। এরপর থেকেই ফুটবল বিশ্বে চলছে তুমুল আলোচনা। টুর্নামেন্টজুড়ে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকা সত্ত্বেও স্পেনের অধিনায়ক কেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেলেন? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই। তবে পরিসংখ্যানের বাইরে রদ্রির যে প্রভাব, তা-ই তাকে এই সম্মানে ভূষিত করেছে।
ফুটবলে সাধারণত গোল বা অ্যাসিস্টকে সাফল্যের বড় মাপকাঠি ধরা হয়। কিন্তু রদ্রির ক্ষেত্রে বিচারকরা নজর দিয়েছেন `ইনপ্যাক্ট` বা প্রভাবের ওপর। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি স্পেনের মাঝমাঠের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন। গোল করার চেয়ে গোল তৈরির সুযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়ে রক্ষণভাগকে নিশ্ছিদ্র রাখাই ছিল তার মূল কাজ।
টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের ভারসাম্য, বলের দখল ধরে রাখা এবং আক্রমণ-রক্ষণে সংযোগ তৈরির দায়িত্ব ছিল মূলত তার কাঁধে। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে রদ্রির নাম চোখে না পড়লেও মাঠে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। প্রতিটি ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ, খেলার গতি নির্ধারণ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার কাজে ছিলেন অনন্য।
বলের দখল রাখা এবং খেলার গতি নির্ধারণে তার বিকল্প ছিল না। বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগও ছিল দুর্দান্ত। পুরো টুর্নামেন্টে দলটি মাত্র একটি গোল হজম করেছে। মাঝমাঠে রদ্রির উপস্থিতি রক্ষণভাগকে বাড়তি নিরাপত্তা দিয়েছে, একই সঙ্গে আক্রমণ গড়ার ভিত্তিও তৈরি করেছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন রদ্রি।
পুরো টুর্নামেন্টে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়ে তিনি স্পেনের আক্রমণের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন। এছাড়া হাই-ইনটেনসিটি রানিং বা উচ্চগতির দৌড়ে তিনি ছিলেন সবার চেয়ে এগিয়ে। আধুনিক ফুটবলে একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডারের গুরুত্ব রদ্রি নতুন করে প্রমাণ করলেন। গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়াও একজন খেলোয়াড় কীভাবে একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেন, রদ্রি তারই আদর্শ উদাহরণ।
আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেও, শেষ পর্যন্ত বিচারকদের বিবেচনায় জয়ী হয়েছে রদ্রির `কনসিস্টেন্সি` বা ধারাবাহিকতা। বিচারকদের মতে, টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে রদ্রি যে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা দেখিয়েছেন, তা স্পেনের শিরোপা জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।
রদ্রির এই গোল্ডেন বল জয় ফুটবল দর্শনের একটি নতুন দিক উন্মোচন করল—সাফল্য কেবল গোল সংখ্যায় মাপা যায় না, মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে যে অদৃশ্য প্রভাব থাকে, তার মূল্যও কম নয়।
কালের সমাজ/এসআর

