ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

লামায় জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান | মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম লামায় জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা

আশরাফুল হাকিম ইমন (২২), পিতা- মৃত নুরুল হাকিম পিতার নামীয় ও দাদার নামীয় ও ভোগদখলীয় ৩০৬নং ফাইতং আর/৩০৭৯নং হোল্ডিং এর ৫.০০একর ও একই মৌজার আর/৪০০নং হোল্ডিং এর ৫.০০একর ২য় ও ৩য় শ্রেণীর জমি সহ সর্বমোট ১০.০০(দশ) একর জমি তৌজিভূক্ত হওয়ার পর হইতে আমার পিতা বহু অর্থ ব্যয় ও কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান সৃজনক্রমে ও কিছু জায়গা চাষিলা জমিতে উন্নীত করে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে আছি এবং আমার দাদার নামীয় আর/৪০০নং হোল্ডিং এর তাহার ওয়ারিশ পুত্র সূত্রে প্রাপ্ত জমিতেও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখলে মৃত নুরুল হাকিম গং ও দাদা নুরুল হুদা, পিতা- মৃত হাসমত আলীর গং আছেন। 

তৎ মতে সরকারের খাজানা পরিশোধ এবং নুরুল হাকিমের ওয়ারিশগণের নামে নামজারী জমাভাগ খতিয়ান চূড়ান্ত প্রচারিত করেন নাই।উল্লেখিত: আর/৩০৭৯নং হোল্ডিং এর ৫.০০ একর ও একই মৌজার আর/৪০০নং হোল্ডিং এর ৫.০০ একর ২য় ও ৩য় শ্রেণীর জমি সহ সর্বমোট ১০.০০ (দশ) একর জমি নুরুল হাকিম, গং ও দাদা নুরুল হুদা, পিতা- মৃত হাসমত আলীর গংদের দখল ও খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

 বিরোধ মীমাংসায় জন্য ফাইতং ইউনিয়নে গ্রাম আদালত, স্থানীয়প্রতিনিধি নিয়েই আসতে বলা হলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে এরিয়ে জান। তা নিয়ে  লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ওবাইদুল হাকিম (৫২), ওমর হাকিম (৪৬), আজিজুল হাকিম (৪২), মন্নান হাকিম সর্বপিতা-মৃত নুরুল হুদা, মৃত নুরুল ইসলাম এর ওয়ারিশ গং সাইফুল ইসলাম এবং আশরাফুল ইসলাম গং বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোগ দখলে চেষ্টায় আছে। 

অভিযুক্তরা জায়গা থেকে রাতে দিনে স্কেভেটর দিয়ে অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতিসাধন ও চাষাবাদ জমির ক্ষতি করায় অভিযোগ দেন।এই বিষয়ে নুরুল হাকিম, গং ও দাদা নুরুল হুদা, পিতা- মৃত হাসমত আলীর গং আশরাফুল হাকিম ইমন গং পক্ষ থেকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামের বিরোধ মীমাংসায় প্রতিটি মীমাংসা নুরুল হাকিম গংদের পক্ষে। আর/৩০৭৯নং হোল্ডিং এর ৫.০০ একর জবানবন্দি‍‍`দে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পরিমাপ পরবর্তী তদন্ত জন্য অভিযুক্তগণ‍‍`দের কে সার্ভেয়ার খরচ জমা দিতে বল্লে জমা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে অভিযুক্তরা চলমান ০৪ মাস মধ্যে ও সার্ভেয়ার খরচ জমা দেন নাই। 

বিরোধীয় জমিতে দু‍‍`পক্ষই লোকজন দখলে- শামিত্ব আছে। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে আমাদের পৈত্রিক ওয়ারিশী খরিদা জমি জোর দখলের অপচেষ্টা করছে। তারা বারবার আমাদেরকে নানা ধরনের হুমকি- ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।এ বিষয়ে ফাইতং গ্রাম আদালতে জমি সীমানা বিরোধ নিয়ে সালিশ চলমান আছে। মিমাংসা বসলে আমাদের পক্ষে রায় যায়। কিন্তু তারা গায়ের জোরে উক্ত মিমাংসা-নামা মেনে নিচ্ছে না। তারা স্থানীয় শালিষ- বিচারেরও কোন তোয়াক্কা করছে না। গত ৪০/৪৫ বছর উক্ত জমিতে আমরা চাষাবাদ করে আসছি। 

কিন্তু চাষাবাদ করতে গেলে বিগত (২২ ফেব্রুয়ারী২০২৬ ইং) বিকালে অভিযুক্তরা সহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী বাঁধা প্রদান করে। এবং আমাদের মারধর করতে উদ্যত হয়। তারা স্পষ্ট বলে যে, পৈতৃক ওয়ারিশী জমিতে আমাদেরকে চাষাবাদ করতে দেবে না। জমিতে গেলে হুমকি ধামকি ও লাশ গুম করবে। সম্প্রতি রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধীয় জমিতে বসতবাড়ি তৈরি করতে চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি। অথচ তারা উক্ত জমিতে আমার পিতা প্রবাস থেকে মামলা খরচ ও বিভিন্ন বাবদ দীর্ঘ বছর আমার পিতা ৫০ লক্ষ টাকা ও বেশি টাকা দিয়েছে।আশরাফুল হাকিম ইমন (২২), পিতা- মৃত নুরুল হাকিম গং অভিযোগ উল্লেখ আরও বলেন, বিগত ২০১৭ ইং সালে আমার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। 

পিতার মৃত্যুতে তাহার বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে আমরা মোট ০৫ জন। তার মধ্যে ০২ ভাই, ০২ বোন ও ০১ (এক) স্ত্রীকে রাখিয়া যান। পিতার মৃত্যুতে আমরা আবেদনকারী গং তাহার নামীয় ও ভোগদখলীয় ৩০৬নং ফাইতং মৌজার আর/৩০৭৯নং হোল্ডিং এর জমি লাগিয়ত প্রদান করে চাষাবাদ করিয়া ভোগদখলে নিয়োজিত ছিলাম। আমার পিতার মৃত্যুর সুযোগে উপরোক্ত অভিযুক্তগণ পরস্পর যোগসাজসে আমাদেরকে আমার পিতার নামীয় ও দাদার নামীয় সকল সহায় সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে দূর্লোভের বশবর্তী হইয়া জোরপূর্বক একের পর এক বাগান হইতে গাছগাছালি ও পাহাড় নির্বিচারে কেটে ফেলে আমাদের জায়গা-জমি জবর দখল করিয়া বর্তমানে অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করিয়া আসতেছে।

এই বিষয়ে আমার মাতা ইসমত আরা বেগম বিগত ১৫/০৭/২০২৫ ইং তারিখে অভিযুক্তরা গং এর বিরুদ্ধে ০৭নং ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দায়ের করার পর নালীশি বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বস্থ করিলেও অদ্যবধি পর্যন্ত কোন প্রকার সুরাহা হয়নি। বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পর হইতে অভিযুক্তগণ আরও উত্তেজিত হয়ে আমাদের পক্ষকে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া আসিতেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন, অভিযুক্তগণ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ০৮/১০ জন অভিযুক্তগণ স্কেভেটর নিয়ে তফশীলের ঘটনাস্থলের জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করে কোনো অনুমতি ব্যতিত নির্বিচারে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা শুরু করে। 

আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তদেরকে আমার পিতার নামীয় জায়গা হতে পাহাড় কাটা বাঁধা করলে অভিযুক্তগণ সহ অজ্ঞাতনামা লোকজন আমাকে মারাত্মক ভয়ভীতি দেখায়। আমি অভিযুক্তগণ কর্তৃক এইরূপ হুমকির শিকার হয়ে কোন উপায় না দেখে উক্ত বিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করিয়া নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করি। অভিযুক্তগণ অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে ও ফসলি জমি নষ্ট করে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে।অভিযুক্তগণ ঘটনার তারিখ হইতে অদ্যবধি পর্যন্ত প্রতিদিন থেমে থেমে সুযোগ বুঝে অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে।এই বিষয়ে অভিযুক্তদের একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করলেও সংযোগ না পেয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।এই বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক বলেন, বাদী-বিবাদী কেউ উপস্থিত হচ্ছে না। দু‍‍`পক্ষই উপস্থিত হলে মিমাংসা ব্যবস্থা হবে।এই বিষয়ে নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, অভিযোগ টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!