স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,২৯ মার্চ (রবিবার) তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ মাজুম আলী মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত মাইজ উদ্দিনের দোকানে বসে দীর্ঘক্ষণ মদ পান করেন আফাজ উদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি সেখানে মারাত্মক অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আফাজ উদ্দিনকে অচেতন অবস্থায় দেখেও দোকানদার মাইজ উদ্দিন কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বরং তাকে দোকানের ভেতর তালাবদ্ধ করে নিজের বাড়িতে চলে যান।
বিকেলে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে তালাবদ্ধ দোকান থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন অসুস্থ মানুষকে দোকানের ভেতর আটকে রেখে দোকানদারের পালিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ আইনি ঝামেলা এড়াতে একটি প্রভাবশালী চক্র নিহতের পরিবারকে চাপ দিচ্ছে।
মদ পানের প্রকৃত উৎস এবং বিষক্রিয়ার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মাইজ উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায় নাই এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ
দোকানদার মাইজ উদ্দিনের এমন অপেশাদার ও অমানবিক আচরণের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন চলছে।
একজন মানুষকে মুমূর্ষু অবস্থায় দোকানে তালা মেরে রেখে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।
আফাজ উদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব যে এটি সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত।
এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে। তবে রহস্যজনক এই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানামুখী আলোচনার ঝড় বইছে
কালের সমাজ/ কে.পি

