ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে টিয়ারা গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত মো. ইকবাল হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
গতকাল (১১/৬/২৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত ইকবাল হোসেন টিয়ারা গ্রামের মুন্সি বাড়ির মৃত আবুল খায়েরের ছেলে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান-"প্রতিদিনের মতো গত ২ জুন সকাল ৭টায় বাজারে দুধ বিক্রি করতে যান ইকবাল হোসেন। ওই সময় প্রতিপক্ষ আতিকুর রহমান শিশু মিয়ার নেতৃত্বে ইকবালের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও হকি স্টিক দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ইকবাল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে অবস্থার অবনতি হলে ৫ জুন শুক্রবার তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। গতকাল (১১/৬/২৬) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের কন্যা মুক্তা আক্তার কান্না জনিত কন্ঠে বলেন-"আমার বাবা বাজারে দুধ বিক্রি করতে গেলে শিশু মিয়ার সমর্থকরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। ওই হামলার ঘটনায় আমার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিহতের ছোট ভাই শিমুল জানান-"টিয়ারা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে শিশু মিয়া ও তাঁর লোকজন পরিকল্পিত ভাবে এ হামলা চালিয়েছে।" এ ঘটনায় তাঁরা থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ শিশু মিয়া গ্রুপের প্রতিনিধিরা জানান- গত ২ জুনের মারধরের ঘটনায় ইকবাল মোটেও গুরুতর আহত হননি। এমনকি ঘটনার কয়েক দিন পরও তাঁকে টিয়ারা বাজারে সুস্থ শরীরে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
তাঁদের দাবি- ইকবালের মৃত্যুর পেছনে রয়েছে তাঁর পারিবারিক বিরোধ। গত ৫ ও ৭ জুন ইকবালের আপন ভাই শিমুল এবং ভাতিজা ইমরানের সঙ্গে তাঁর ঘরে মারামারি হয়। এক পর্যায়ে ভাতিজা ইমরান ইকবালকে জাপটে ধরে ধস্তাধস্তি করলে তিনি ঘরের পাশের একটি উঁচু ড্রেনে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হন। মূলত ঐ পারিবারিক কলহের আঘাতের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরর্শেদ আলম জানান- "এখনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টিয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন এবং আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ১ জুন সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়ার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে পরদিন ২ জুন মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টিয়ারা বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
কালের সমাজ/কে.পি

