ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

মার্কিন নেশন অব ইসলামের ফার্স্ট লেডি আর নেই

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম মার্কিন নেশন অব ইসলামের ফার্স্ট লেডি আর নেই

মার্কিন নেশন অব ইসলামের ফার্স্ট লেডি খাদিজা ফাররাখান আর নেই। তিনি নেশন অব ইসলামের  নেতা লুইস ফাররাখানের স্ত্রী। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সংগঠনটির একজন সদস্য ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯০ বছর।

তিনি (২৭ জুন) পরলোক গমন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেশন অব ইসলাম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর শোকের সঙ্গে, তবে আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, সম্মানিত মন্ত্রী লুইস ফাররাখান (৯৩) জানাচ্ছেন যে তাঁর ৭২ বছরের জীবনসঙ্গী, নেশন অব ইসলামের ফার্স্ট লেডি, মাদার খাদিজা আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন। একজন স্নেহময়ী স্ত্রী, মা এবং সম্মানিত Elijah Muhammad-এর একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তাঁর মূল্যবান জীবনের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। মাদার খাদিজাকে চিরকাল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। এই কঠিন সময়ে আল্লাহ যেন পরিবারকে অতুলনীয় ধৈর্য ও সান্ত্বনা দান করেন। আমরা তাঁদের জন্য দোয়া ও সমবেদনা জানাচ্ছি।

First lady of Nation of Islam‍‍` Khadijah Farrakhan dies at 90 | AP News

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এখনো তাঁর জানাজা বা দাফনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণকারী খাদিজা ১৯৫৩ সালে লুইস ফাররাখানকে বিয়ে করেন। দুই বছর পর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, যখন তাঁর স্বামী এলিজাহ মুহাম্মদের নেতৃত্বে নেশন অব ইসলাম ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসছিল।

পরবর্তী সাত দশকে তিনি ‘মাদার খাদিজা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি পরিবারের প্রধান অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন এবং মন্ত্রী ফাররাখানের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নীরবে সমর্থন দিয়ে যান। তাঁদের সংসারে নয়জন সন্তান ছিল।

যদিও তিনি সাধারণত তাঁর স্বামীর তুলনায় জনসমক্ষে কম উপস্থিত হতেন, তবুও কয়েকবার জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন।

১৯৯৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত শিলিয়র উইমেন মার্চে তিনি হাজারো মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি পরিবার ও সমাজকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

The 9 Farrakhan Children of Minister Louis And Mother Khadijah.

তিনি বলেন, ‘একটি জাতি তার নারীদের চেয়ে বেশি উচ্চতায় উঠতে পারে না। আমরা নারীদের নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে পরিবার হিসেবে—পুরুষ, নারী ও শিশু—আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফাররাখান পরিবার একাধিক ব্যক্তিগত শোকের মধ্য দিয়ে গেছে।

২০১৮ সালে তাঁদের জ্যেষ্ঠ ছেলে লুইস ফাররাখান জুনিয়র ৬০ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে মারা যান। আরেক ছেলে জসুরা ফাররাখান  ২০২৩ সালে ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

খাদিজা ফাররাখানের মৃত্যুর খবরে নেশন অব ইসলামের সমর্থক এবং বহু অনুসারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নেশন অব ইসলামের অনেক সদস্যের কাছে ‘মাদার খাদিজা’ ছিলেন অটল ঈমান, নীরব দৃঢ়তা এবং আধুনিক কৃষ্ণাঙ্গ ধর্মীয় নেতৃত্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের অবিচল সহযাত্রীর প্রতীক। সূত্র: এমএসএন

Link copied!