ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

“দেশের খেলাপি ঋণ হ্রাসে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ সুফল বয়ে আনবে”

তারিক আফজাল | অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম “দেশের খেলাপি ঋণ হ্রাসে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ সুফল বয়ে আনবে”

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে, যা দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।

খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শুধু ঋণ পুনঃতফসিলের ওপর নির্ভর না করে খেলাপি ঋণের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, যোগ্য ও সক্ষম ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ প্রদান এবং দ্রুত ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী ব্যাংকিং সুশাসন, উন্নত ঋণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা, কার্যকর তদারকি এবং দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টির প্রবণতা কমবে এবং বিদ্যমান খেলাপি ঋণও ধীরে ধীরে আদায় করা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মানিত গভর্নর বলেন, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রায় ২ কোটি আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে এবং খাতটিকে শক্তিশালী করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, প্রচলিত নীতিমালা সংশোধন, সংস্কার কিংবা আইনগত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, তবে আমি বিশ্বাস করি—শুধু প্রচলিত নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও দূরদর্শী, উদ্ভাবনী ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে NPL (Non-Performing Loan বা খেলাপি ঋণ) কমাতে শুধু ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন যথেষ্ট নয়। টেকসইভাবে NPL কমানোর জন্য ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়া, আদায় ব্যবস্থা, ব্যাংক পরিচালনা, আইনি কাঠামো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি—সবগুলো ক্ষেত্রেই সংস্কার প্রয়োজন।

খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে :
অগ্রাধিকার    পদক্ষেপ    দীর্ঘমেয়াদি প্রতিকার
১. নতুন NPL সৃষ্টি বন্ধ করা    ঋণ মূল্যায়ন, নগদ প্রবাহভিত্তিক ঋণদান, গ্রুপ/সংযুক্ত ঋণগ্রহীতা শনাক্তকরণ এবং Related-party lending নিয়ন্ত্রণ    ঋণ পরিশোধের পর ও পুনতফসিল পরবর্তী পুনরায় খেলাপি হইতে বিরত রাখা 
২. বিদ্যমান NPL আদায় করা    বড় খেলাপি ঋণের জন্য বিশেষায়িত Recovery Team এবং আইনি ও আদালতের মাধ্যমে দ্রুত আদায়    আইনি প্রতিকার ও খেলাপি গ্রাহকের উপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ফেরত দ্রুত আদায় করা 
৩. ব্যাংকের Balance Sheet পরিষ্কার করা    প্রকৃত ক্ষতি স্বীকার, পর্যাপ্ত Provision রাখা এবং যেসব ঋণ বাস্তবে আদায়ের সম্ভাবনা নেই সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী Write-off করা    দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ ও আয় বৃদ্ধি 
৪. ঋণ পুনঃতফসিলের সংস্কার    শুধুমাত্র ব্যবসায়িকভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে Restructure করা    পুনতফসিল পরবর্তী সময়ে নতুন করে খেলাপি না হওয়া
৫. ব্যাংকিং Governance শক্তিশালী করা    যোগ্য পরিচালনা পর্ষদ, Related-party lending নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা    সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে সমন্বিত করা 
৬. আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত করা    অর্থঋণ আদালত ও জামানত আদায়ের প্রক্রিয়া আধুনিক ও দ্রুত করা    মামলা নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার ও বিচার বিভাগের সমন্বয় মামলা সম্পন্ন ও ভবিষৎ উদাহরণ সৃষ্টি 
৭. ব্যাংকিং তদারকি শক্তিশালী করা    ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা, ব্যাংকের ঋণ ও সম্পদের গুণগত মান যাচাই, সংকটের আগেই আগাম হস্তক্ষেপ এবং সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির বিপরীতে IFRS 9/ECL অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংস্থান রাখা।    দীর্ঘমেয়াদি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ও আগাম আর্থিক ক্ষতির সম্ভানাবনা প্রতিহত করার লক্ষ্যে কার্যকর 
পরিতাপের বিষয় হলো, খেলাপি ঋণের নিরসনে বিগত সরকার ঢালাও নীতিমালা প্রণয়ন করে সকল খেলাপিকে পুনতফসিল করার সুযোগ করে দিয়েছেছিলেন। তারই প্রতিফলন হলো মোরাটোরিয়াম পূর্ণর পর পুনরায় খেলাপি হয়ে পড়া। যার দরুন খেলাপি ঋণ, সুদ ও জরিমানা সকল সমম্বয় দেশের খেলাপি ঋণ ৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: সক্ষম ও অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে আলাদা করা বর্ণিত নীতিমালা অনুসরণ করা:

বাংলাদেশে সব NPL-কে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ব্যবসা সাময়িক সমস্যায় আছে কিন্তু সক্ষম → পুনর্গঠন।

ব্যবসা আর টেকসই নয় → Recovery/Liquidation।

ইচ্ছাকৃত খেলাপি বা জালিয়াতি → কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ ও অবিলম্বে সম্পদ বিক্রি এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সংস্কার করা প্রয়োজন ( নন ব্যাঙ্কিং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিক্রি)

অর্থাৎ, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে হবে কেবল সেই প্রতিষ্ঠানকে যার ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ করার বাস্তব সক্ষমতা রয়েছে।
প্রতিটি ব্যাংকে বিশেষায়িত NPL Recovery Unit তৈরি করা

বড় NPL সাধারণ শাখা পর্যায়ের Collection Team দিয়ে কার্যকরভাবে আদায় করা কঠিন।

প্রতিটি ব্যাংকে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি Special Asset Management/Recovery Division থাকা উচিত। সেখানে থাকতে পারে:

    •    অভিজ্ঞ Recovery Officer
    •    Forensic Accountant
    •    আইনজীবী
    •    সম্পদ মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ
    •    Restructuring Specialist
    •    Workout/Recovery Specialist

বিশেষ করে শীর্ষ ৫০, ১০০ বা ৫০০টি বড় খেলাপি হিসাবের জন্য আলাদা Recovery Plan তৈরি করা উচিত।

প্রতিটি বড় NPL-এর জন্য ৯০ দিন, ১৮০ দিন এবং ৩৬৫ দিনের Recovery Target নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৩. Evergreening বন্ধ করা

সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো পুরোনো খেলাপি ঋণকে নতুন ঋণ দিয়ে সাময়িকভাবে ভালো দেখানো।

যেমন:

নতুন ঋণ → পুরোনো ঋণ পরিশোধ → সাময়িকভাবে Regular → আবার একই সমস্যা

এভাবে প্রকৃত NPL কমে না; শুধু হিসাবের অবস্থান পরিবর্তিত হয়।

তাই ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে লেনদেনভিত্তিক তথ্য, সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের বিশ্লেষণ এবং ঋণ পরিশোধের প্রকৃত উৎস যাচাইয়ের মাধ্যমে ঋণের কৃত্রিম নবায়ন বা পুনঃঅর্থায়ন (Evergreening) শনাক্ত করতে হবে।

কোনো ঋণকে শুধু পুনঃতফসিল করার কারণে Performing Loan হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। ঋণগ্রহীতাকে ধারাবাহিকভাবে প্রকৃত অর্থে কিস্তি পরিশোধ করার সক্ষমতা ও বাস্তব কর্মক্ষমতা নিদেন পক্ষে ৬ মাস দেখাতে হবে।

ব্যাংকের মালিক/শেয়ারহোল্ডারদেরও ক্ষতি বহনের ব্যবস্থা করতে হবে

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি ব্যাংকের মালিকরা মনে করেন যে শেষ পর্যন্ত সরকার বা আমানতকারীরা ব্যাংকের ক্ষতি বহন করবে, তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়ার প্রবণতা কমবে না।

একটি কার্যকর কাঠামো হওয়া উচিত:

শেয়ারহোল্ডার → অধস্তন ঋণদাতা → অন্যান্য উপযুক্ত পাওনাদার → প্রয়োজনে সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য সরকারি সহায়তা।

অর্থাৎ, ব্যাংক ব্যর্থ হলে প্রথমেই করদাতা বা জনগণের অর্থ দিয়ে ক্ষতি পূরণ না করে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও মালিকদেরও যথাযথভাবে ক্ষতি বহন করতে হবে।
AMC তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না

Asset Management Company (AMC) ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু এর কাঠামো সঠিক হতে হবে।

ভুল পদ্ধতি:

ব্যাংক NPL → AMC-তে স্থানান্তর → ব্যাংক সরকারি ধরনের কাগজ পায় → NPL ব্যাংকের Balance Sheet থেকে কমে যায় → শেষ পর্যন্ত করদাতার ওপর চাপ পড়ে।

উন্নত মানের পদ্ধতি:

স্বচ্ছ মূল্যায়ন → প্রকৃত ক্ষতি স্বীকার → Market-based Transfer Price → পেশাদার Recovery/Workout → স্পষ্ট জবাবদিহিতা

অর্থাৎ, AMC যেন NPL লুকানোর মাধ্যম না হয়ে প্রকৃত Recovery-এর একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হয়।
জামানত আদায় ও আদালতের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে

ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া যদি বছরের পর বছর চলে, তাহলে জামানতের মূল্য কমে যায় এবং Strategic Default-এর প্রবণতা বাড়ে।

তাই বাংলাদেশে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত:

    •    ঋণ ও জামানতের রেকর্ড Digitalization
    •    Standardized Collateral Valuation
    •    অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম দ্রুত করা
    •    Specialized Commercial Bench তৈরি
    •    Electronic Case Management
    •    সহজ ও বিরোধহীন মামলার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা
    •    ব্যাংক, আদালত ও ভূমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়
    •    Bankruptcy/Insolvency ব্যবস্থার উন্নতি

ব্যাংকিং Governance

দীর্ঘমেয়াদে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্বল কর্পোরেট সুশাসন, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ প্রদান এবং প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ খেলাপি ঋণ (NPL) বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

তাই জোর দিতে হবে:

    •    প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক (Beneficial Owner) শনাক্তকরণ
    •    সংশ্লিষ্ট পক্ষের ঋণ ও আর্থিক সম্পৃক্ততার (Connected-party Exposure) ওপর কঠোর সীমা
    •    স্বাধীন/স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ
    •    যোগ্যতা ও উপযুক্ততা যাচাই (Fit-and-Proper Test)
    •    পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
    •    শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা (Internal Audit)
    •    স্বাধীন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (Risk Management)
    •    স্বাধীন ঋণ অনুমোদন কমিটি (Credit Committee)
    •    অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ

৩ ধাপে NPL কমানোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা

ধাপ ১ — ০ থেকে ১২ মাস: নতুন সমস্যা সৃষ্টি বন্ধ করা

১. দুর্বল ব্যাংকগুলোর Full/Targeted Asset Quality Review (AQR) করা
২. শীর্ষ ১০০–৫০০টি NPL হিসাব শনাক্ত করা
৩. Chronic Defaulter-দের নতুন ঋণ দেওয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা
৪. Viable এবং Non-viable Borrower আলাদা করা
৫. Specialized Recovery Unit গঠন করা
৬. প্রকৃত ক্ষতি স্বীকার এবং যথাযথ Provision রাখা
৭. Evergreening বন্ধ করা

ধাপ ২ — ১ থেকে ৩ বছর: আদায় ও পুনর্গঠন

১. সক্ষম ব্যবসাগুলোকে পুনর্গঠন করা
২. বড় NPL দ্রুত আদায়ের ব্যবস্থা করা
৩. আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা
৪. Non-core Collateral বিক্রি/লিকুইডেশন করা
৫. প্রয়োজন হলে AMC ব্যবহার করা
৬. মৌলিকভাবে সক্ষম ব্যাংককে Recapitalization করা
৭. অকার্যকর ব্যাংককে বারবার সহায়তা না দিয়ে প্রয়োজনে Resolution-এর আওতায় আনা

ধাপ ৩ — ৩ থেকে ৫ বছর: পুনরায় NPL সৃষ্টি প্রতিরোধ

১. Risk-based Supervision সম্পূর্ণভাবে চালু করা
২. IFRS 9/Expected Credit Loss কাঠামো কার্যকর করা
৩. শক্তিশালী Borrower-level Credit Analytics তৈরি করা
৪. Credit Information/CIB ব্যবস্থার উন্নতি করা
৫. Insolvency Framework শক্তিশালী করা
৬. Connected Lending-এর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ
৭. ব্যাংকের Asset Quality বা Capital নির্দিষ্ট সীমার নিচে গেলে স্বয়ংক্রিয় Supervisory Intervention করা

মূল নীতি

ব্যাংক গুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু NPL ratio কম দেখানো নয়; বরং প্রকৃতপক্ষে খেলাপি ঋণ আদায়যোগ্য করে তোলা এবং ভবিষ্যতে নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টি বন্ধ করা।

শুধু ঋণ পুনঃতফসিল করলে রিপোর্টে NPL ratio সাময়িকভাবে কমতে পারে। কিন্তু প্রকৃত Recovery + প্রকৃত Loss Recognition + শক্তিশালী Governance + নতুন খেলাপি ঋণ প্রতিরোধ—এই চারটি বিষয়ই দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের NPL সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।

আমারা আশা করবো, মন্দ ঋণ প্রতিস্থাপন, আয় বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নিয়মতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে এবং এই খাতে গ্রাহক আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে। তোবেই বাংলাদেশ হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ।

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

Link copied!