ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমান পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান

তারিক আফজাল | অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমান পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো অসংখ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতগুলোর অন্যতম কক্সবাজার এবং মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকা বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণের প্রধান নিদর্শন।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, নদী, পাহাড় ও সবুজ প্রকৃতি। সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং অতিথিপরায়ণ মানুষের জন্য বাংলাদেশ একটি গর্বিত জাতি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় দেশ।

এসব আকর্ষণীয় স্থান ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিমান চলাচল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং দেশি-বিদেশি সব যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার যুগোপযোগী বিমানবন্দর নির্মাণ ও বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত প্রান্তরে বিমানবন্দর উদ্বোধন এরই বার্তা বহন করছে।

সরকারের বর্তমান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সক্রিয় সমন্বয় এই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতগুলোর অন্যতম কক্সবাজার এবং মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকা বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম প্রধান নিদর্শন।

সরকার ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (HSIA) আধুনিকায়ন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মান উন্নত করা, পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন করা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল যাত্রী পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর জন্য উন্নয়ন করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও সেবার দক্ষতা উন্নত করার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

উন্নত তদারকি ব্যবস্থা এবং আধুনিক ব্যাগেজ-হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে লাগেজ পাওয়ার অপেক্ষার সময় কমেছে। বর্তমানে অধিকাংশ যাত্রী অবতরণের প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই লাগেজ পেয়ে যান।

যা বর্তমান বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর আকস্মিক ও নিয়মিত বিমানবন্দর উপস্থিতির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।

আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক মিশ্র-বহরের এয়ারলাইন হিসেবে বিমানকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা ও আলোচনা শুরু করেছে। এর মধ্যে বোয়িং এবং এয়ারবাস উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং যার ক্রয়প্রক্রিয়া চলছে।

বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (Department for Transport—DfT) সর্বশেষ নিরাপত্তা মূল্যায়নে উন্নতি করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ স্কোর করেছে।

যুক্তরাজ্যের DfT-এর এই মূল্যায়নে দুই বিমানবন্দরের যাত্রী, কার্গো ও ডাক পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

CAAB জানিয়েছে, কার্গো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে Additional Measures Assessment-এ বাংলাদেশ ১০০ শতাংশ পরিপালন অর্জন করেছে।

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, এই ফলাফল দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নতির প্রতিফলন। এর ফলে যাত্রী, এয়ারলাইন, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়তে পারে।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের High Risk Cargo and Mail (HRCM) ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। এর ফলে ইউরোপগামী কার্গো ও ডাকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। এসব বিধিনিষেধের কারণে রপ্তানিকারকদের পণ্য প্রক্রিয়াকরণে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হয়।

CAAB জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে HRCM বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করেছে।

এই বিশেষ উদ্যোগ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং দেশের পতাকাবাহী উড়োজাহাজের বিশ্বব্যাপী সুনাম বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এর মধ্য দিয়েই দেশের অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আর তখনই সার্থক হবে সব ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং মহান স্বাধীনতার চেতনা।

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার

Link copied!