ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, শ্রমবাজারে আসতে পারে সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুন ৩, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, শ্রমবাজারে আসতে পারে সুখবর

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে চলতি মাসেই মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন, নাকি আগে ঢাকায় ফিরবেন— সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অভিবাসন ও শ্রমবাজার ইস্যু সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই খুলতে পারে।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন,“শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০-১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়া ২০২৪ সালের ৩১ মে-র পর বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এর আগে অনুমোদন পাওয়া কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে নতুন কর্মী ভিসা কার্যত বন্ধ রয়েছে।

বিগত সরকারের সময়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা শুরু করে। এ লক্ষ্যে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অতীতের সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল রিক্রুটিং এজেন্সিভিত্তিক সিন্ডিকেট ব্যবস্থা। ২০১৮ ও ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারকের আওতায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক এজেন্সির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান চুক্তি অপরিবর্তিত থাকলে পুরোনো সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হতে পারে।

অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।“মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ দেওয়া হবে না। আমি যদি মন্ত্রী থাকি, এখানে কোনো সিন্ডিকেট হবে না। জিরো টলারেন্স,” বলেন তিনি।

মালয়েশিয়া ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশকে পাঠানো এক চিঠিতে ১০টি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চেয়েছিল। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর অভিজ্ঞতা,নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা,অন্তত ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস,পাঁচ বছরের বৈধ লাইসেন্স,কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, মানবপাচার বা জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ না থাকা।

বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, শ্রমবাজার পুনরায় খোলা জরুরি হলেও সেটি যেন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তার মতে, পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুন করে চুক্তির কাঠামো সাজালে ভবিষ্যতে শ্রমবাজার আবার বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সফরে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে শ্রমবাজার ছাড়াও—বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষা, কৃষি, হালাল শিল্প, সুনীল অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, আসিয়ান সহযোগিতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে।

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে প্রথম বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যান। ২০২৩ সালে দেশটিতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৩১ মে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ সুগম করতে পারে।

 

কালের সমাজ/ওজি

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!