এক ছাদের নিচে মৃত্যু, পোকা ধরার পরও মায়ের নিথর দেহের খবর জানলো না স্কুল শিক্ষিকা মেয়ে। এমন হতভাগ্য এক রত্নগর্ভা মা নুরজাহান বেগম। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ঢাকার মিরপুর ১১ নম্ব এলাকায়।
মিরপুরে সন্তানদের অবহেলায় নুরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু ও লাশ পচে যাওয়ার ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ওএসডি করা হয়েছে।
এই বাসায়ই নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয় এবং পচন-গলা মরদেহে পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা গেছে, গত রোববার (৩১ মে) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নুরজাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান, অপর ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো দুই গুণধর সন্তানের।
আর মেয়ে স্কুল শিক্ষিকার সঙ্গে একই বাসায় বসবাস করতে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য মেয়ের সঙ্গে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন তিনি।
এ ঘটনায় ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এদিকে মায়ের সঙ্গে একই বাসায় পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেননি দায়িত্বশীল স্কুল শিক্ষিকা মেয়ে। নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আনিসুর রহমান বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদান করবেন; অন্যথায় তিনি বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বুধবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন ও বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ / এএইচবি

