বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।
বুধবার বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে ভর্তুকি ও ক্যাপাসিটি পেমেন্টের বোঝা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি সংস্থা প্রতিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্য শুভঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।
অপর সদস্য মো. আমিনুর রহমান খোকন বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো খুবই কম। অথচ রুফটপ সোলার, সৌর সেচ, অ্যাগ্রিভোল্টাইকস, ফ্লোটোভোল্টাইকস ও সম্প্রদায়ভিত্তিক শক্তিব্যবস্থা জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বক্তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর কর-শুল্ক প্রত্যাহার, সহজ ঋণ সুবিধা এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, নতুন কয়লা, তেল ও এলএনজিনির্ভর প্রকল্পে বিনিয়োগ কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশকর্মী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুভাষ দাস বলেন, টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে এখনই জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করতে হবে।
কালের সমাজ / এএইচবি

