নীল আকাশে সাদা মেঘের লুকোচুরি আর ভোরের ঘাসে শিউলি ভেজা শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে এখন রূপের রাণী শরতকাল বিরাজ করছে। বর্ষার বিদায়ের পর বাংলার প্রকৃতিতে এখন শরতের স্নিগ্ধতা। আর এই ঋতুর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘কাশফুল’। মাগুরার শত্রুজিৎপুর, পয়ারী ও মহম্মদুরের মধুমতি নদীর চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন বিছিয়ে আছে শুভ্রতার চাদর, যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থী। সরেজমিনে দেখা যায়, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে মধুমতী নদীর তীরবর্তী এলাকা, শত্রুজিৎপুর এবং পয়ারী গ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকায় ফুটেছে সাদা সাদা কাশফুল। নীল আকাশের নিচে যেন এক শ্বেতশুভ্র চাদর বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি। মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের এই মেলা মুগ্ধ করছে যে কাউকে।
শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে ও প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিকেল হলেই এসব কাশবনে ভিড় জমাচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা প্রিয়জনের সাথে হারিয়ে যাচ্ছেন শরতের এই শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে। কাশফুল শুধু সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সাথেও নিবিড়ভাবে জড়িত। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কাশ মূলত ছনগোত্রীয় এক প্রকার বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। এর চিরল পাতার দুই পাশ বেশ ধারালো হলেও এর ফুল পাখির পালকের মতো নরম ও কমনীয়।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কাশফুল ঝরে যাওয়ার পর এই গাছের শুকনো অংশ গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দারুণ উপকারে আসে। স্থানীয় গৃহবধূরা শুকনো কাশ দিয়ে ঘর ঝাঝু দেয়ার ঝাঁটা, ডালি, মাদুর ও বসার মোড়া তৈরি করেন। এছাড়া কৃষকেরা ঘরের চাল ছাওয়া, সীমানার বেড়া দেয়া এবং রোদ থেকে বাঁচতে মাথায় দেয়ার বিশেষ ‘মাথাল’ তৈরিতে এই কাশগাছ ব্যবহার করে থাকেন। অনেকের জন্য এটি আয়ের একটি বাড়তি উৎসও বটে। জাহিদুল ইসলাম সেতু নামের এক দর্শনার্থী জানান, কাশবনের মাঝে দাঁড়ালে এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি মেলে, যা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে দেয়। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য যেমন আমাদের মনকে উদ্বেলিত করে, তেমনি এর ব্যবহারিক উপযোগিতাও অনস্বীকার্য। শরতের এই ক্ষণস্থায়ী শুভ্র রূপকে সংরক্ষণ এবং এর প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।
কালের সমাজ/কে.পি

