পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হিমছড়ি এলাকায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্ল্যাট সলিং রাস্তার কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই হালকা বৃষ্টির পানিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশের ইট সরে গিয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হিমছড়ি এলাকার মনুর বাড়ি থেকে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তার একটি অংশে নতুন করে ফ্ল্যাট সলিং করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বের ইট সলিং রাস্তার শেষ প্রান্ত থেকে নতুন কাজ শুরু করার কথা থাকলেও মাঝখানে প্রায় ৩০০ ফুট অংশ ফাঁকা রেখে পরবর্তী অংশে সলিং করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইট বসানোর আগে রাস্তার বক্স যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি এবং পর্যাপ্ত বালি ব্যবহার করা হয়নি। ফলে রাস্তার নিচের অংশ শক্ত না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টির পানিতেই কিছু অংশের ইট সরে গিয়ে কাদামাটিতে বসে যাচ্ছে।স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু জাকের বলেন, আমাদের এলাকায় তেমন বরাদ্দ আসে না। মাঝে মাঝে অল্প কিছু বাজেট আসে।
কিন্তু এই অল্প বাজেট নিয়েও যদি এমন তানাশা করা হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? কার কাছে বিচার দেব?সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তিতে হিমছড়ি মনুর বাড়ি থেকে মসজিদের যাতায়াতের রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির অবস্থান ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এবং খাত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ‘যোগাযোগ।স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তার বক্স প্রস্তুতি, বালি ও ইটের ব্যবহার, নির্মাণকাজের মান এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।তবে নির্মাণকাজে অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
কালের সমাজ/কে.পি

