ঢাকা রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ১৭, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ সন্দেহভাজন হিসেবে আক্রান্ত এবং ৮৮ জনের মৃত্যুর পর রোববার (১৭ মে) এই ঘোষণা দেন সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। খবর এনবিসি নিউজ

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবটি কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বৈশ্বিক মহামারীর মানদণ্ড পূরণ করে না। ফলে আতঙ্কিত হয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ না করার জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার একটি বিরল প্রজাতি ‘বুন্দিবুগিও’ ভাইরাসের কারণে ঘটেছে। এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা প্রতিষেধক (টিকা) নেই। কঙ্গো ও উগান্ডায় এ পর্যন্ত ২০ বারের বেশি ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটলেও, বুন্দিবুগিও ভাইরাসের সংক্রমণ এটি মাত্র তৃতীয়বার। এর আগে ইবোলার ‘জাইর’ প্রজাতির প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যেত, যার টিকা ইতিমধ্যে বিশ্বে রয়েছে। চিকিৎসা ও টিকা না থাকায় এবারের প্রাদুর্ভাবকে ‘অনন্য’ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে ডব্লিউএইচও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া, রোয়ামপারা ও মংবওয়ালুসহ অন্তত তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩৩৬ জন সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৮ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। ১৯৭৬ সালে ইবোলা প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর কঙ্গোতে এটি ১৭তম প্রাদুর্ভাব। প্রাথমিক নমুনাগুলোতে ভাইরাস শনাক্তের হার অনেক বেশি হওয়ায় এবারের প্রাদুর্ভাব অনেক বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আক্রান্তদের বেশির ভাগই কঙ্গোর বাসিন্দা হলেও ভাইরাসটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় দুজনের দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের একজন হাসপাতালে মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কাম্পালায় আক্রান্ত এই দুই ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক কোনো যোগাযোগ ছিল না, তবে তারা দুজনেই কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন। এছাড়া কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও ইতুরি থেকে ফেরা এক ব্যক্তির দেহে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ডব্লিউএইচও দেশগুলোকে তাদের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া সচল করার পরামর্শ দিয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা যাত্রী এবং অভ্যন্তরীণ প্রধান সড়কগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং) চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চিকিৎসাজনিত বিশেষ কারণ ছাড়া আক্রান্ত বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করতে দেয়া উচিত নয়। আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনে নেয়া এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন পর্যন্ত নজরদারিতে রেখে যাতায়াত সীমিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে সীমান্ত বা বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, এমন কঠোর পদক্ষেপে মানুষ নজরদারিহীন অননুমোদিত সীমান্ত ব্যবহার করতে পারে, যা ঝুঁকি আরও বাড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিআর কঙ্গোর ঘন ক্রান্তীয় জঙ্গলই ইবোলা ভাইরাসের প্রাকৃতিক আধার। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং মৃতদেহ থেকেও এই ভাইরাস অন্য মানুষের দেহে ছড়াতে পারে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!