ঢাকা রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১ হাজার বছর আগের যে নিদর্শন ভারতকে ফিরিয়ে দিলো নেদারল্যান্ডস

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ১৭, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম ১ হাজার বছর আগের যে নিদর্শন ভারতকে ফিরিয়ে দিলো নেদারল্যান্ডস

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর সফল হলো ভারত। শনিবার (১৭ মে) দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ১১শ শতকের চোল যুগের ঐতিহাসিক তাম্রলিপি ভারতের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ইউরোপের এই দেশ। তথ্য এনডিটিভির।

‘লেইডেন প্লেটস’ নামে পরিচিত এই তাম্রফলকগুলোকে চোল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১২ সাল থেকেই এগুলো ফেরত চেয়ে আসছিল ভারত।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে শুক্রবার নেদারল্যান্ডসে পৌঁছান মোদি।  তাম্রলিপি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মোদি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য এটি আনন্দের মুহূর্ত। ১১শ শতকের চোল তাম্রলিপি নেদারল্যান্ডস থেকে ভারতে ফিরছে। প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।’

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, তাম্রলিপিগুলো চোল সম্রাট রাজরাজা চোল প্রথমের শাসনামলের। তিনি ৯৮৫ থেকে ১০১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতের বাইরে সংরক্ষিত তামিল ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এটি।

মোট ২১টি তাম্রফলকের ওজন প্রায় ৩০ কেজি। এগুলো একটি ব্রোঞ্জের রিং দিয়ে বাঁধা, যাতে চোল রাজাদের রাজমোহর খোদাই করা রয়েছে। একাংশে সংস্কৃত এবং অন্য অংশে তামিল ভাষায় লেখা রয়েছে।

তাম্রলিপিতে নাগাপট্টিনমের একটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য দেয়া অনুদানের বিবরণ রয়েছে। এর মাধ্যমে চোল যুগে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সমৃদ্ধ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, এগুলো দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

ইতিহাসবিদদের ধারণা, রাজরাজা চোল প্রথম মৌখিকভাবে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা প্রথমে তালপাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে তার পুত্র রাজেন্দ্র চোল প্রথম স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য তা তাম্রফলকে খোদাই করান। ব্রোঞ্জের রিংয়ে রাজেন্দ্র চোলের প্রতীকও রয়েছে।

১৮শ শতকে নাগাপট্টিনম ডাচ নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ফ্লোরেন্তিয়াস ক্যাম্পার নামের এক ব্যক্তি এগুলো নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যান। তিনি ভারতে একটি খ্রিস্টান মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘ সময় ধরে তাম্রলিপিগুলো নেদারল্যান্ডসের নিরাপদ সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত ছিল এবং গবেষকদের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ইতিহাসবিদ ও তামিল শিলালিপি গবেষকদের মধ্যে এগুলোর গুরুত্ব বাড়ে। এমনকি চোল সাম্রাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় তামিল উপন্যাস ‘পোন্নিয়িন সেলভান’-এ উল্লেখ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিচিতি পায় এই নিদর্শন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!