রংপুরের পীরগাছায় ছাত্রদল নেতা শামীম হোসেনের উপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে পীরগাছার ইটাকুমারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার বিরুদ্ধে আওয়ামী সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট পীরগাছায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ বিজয় মিছিলে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম রাঙার গুলিবর্ষণ জাতীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও এখনও এলাকায় আওয়ামী শাসনব্যবস্থার মদদে সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ১৮ আগস্ট অন্নদানগর ইউনিয়নের আমতলী বাজার এলাকায় শতবর্ষী আমগাছ কাটার প্রতিবাদে ফেসবুক লাইভ করার পর স্থানীয় আওয়ামী দালালদের সহযোগিতায় বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান মাহবুব ও মোশারফ হোসেনসহ কয়েকজন তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করে। এ সময় ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী শেখ শোভনও হেনস্তার শিকার হন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ শোভন অভিযোগ করেন, বর্তমানে পীরগাছার পুলিশ প্রশাসন কার্যত বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার নির্দেশে চলছে। তিনি বলেন, “যদি দুর্নীতি বা লুটপাটের প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে দেশে সিটিজেন জার্নালিজম ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি দাবি করেন, ছাত্রনেতা শামীম হোসেনের উপর হামলার নির্দেশদাতা আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার পালিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে হামলা ও মিথ্যা মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান, “বিএনপি নেতার মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। ছাত্রনেতা শামীমের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হয়েছে। একইভাবে শামীমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগেও মামলা হয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার পর আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
কালের সমাজ/এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :