ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা জোরদারে ১০ বিষয়ে ঐকমত্য বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনে

কালের সমাজ | বাসস আগস্ট ২৮, ২০২৫, ০৭:১৬ পিএম সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা জোরদারে ১০ বিষয়ে ঐকমত্য বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনে

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও চোরাচালান শূন্যে নামিয়ে আনা এবং যৌথভাবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ ১০টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সম্মেলন।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিজিবির সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চার দিনব্যাপী (২৫-২৮ আগস্ট) এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মহাপরিচালক দালজিৎ সিং চৌধুরীর নেতৃত্বে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়।

সীমান্ত হত্যা ও অনুপ্রবেশ ইস্যু

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের গুলিতে বাংলাদেশি নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানান। এর জবাবে বিএসএফ প্রধান সীমান্ত হত্যা ঠেকাতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল জোরদারের আশ্বাস দেন।
এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন ও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে চলার বিষয়ে আলোচনা হয়।

চোরাচালান ও অপরাধ দমন

মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক, স্বর্ণ ও জাল নোট চোরাচালান রোধে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। পাচারকারীদের বিষয়ে সঠিক সময়ে তথ্য বিনিময় এবং সীমান্তবর্তী জনগণকে সচেতন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও উন্নয়নকাজ

বিজিবি মহাপরিচালক ফেনীর মুহুরীর চর এলাকায় সীমান্ত পিলার স্থাপন এবং অভিন্ন নদীগুলোতে সীমান্ত নির্ধারণের কাজ দ্রুত সম্পন্নের আহ্বান জানান। বিএসএফ মহাপরিচালক এসব বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষ সীমান্ত থেকে ১৫০ গজের মধ্যে অনুমোদন ছাড়া উন্নয়নকাজ না করার বিষয়ে একমত হয়।

আকাশসীমা ও গণমাধ্যম নীতি

কোনো পক্ষই অন্য দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করবে না— এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এছাড়া সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা গুজব না ছড়ানোর ব্যাপারেও একমত হয় দুই বাহিনী।

প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময়

‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় তিনবিঘা করিডরের মাধ্যমে দহগ্রামকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করার কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেন বিএসএফ মহাপরিচালক। একই সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য বিনিময় জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রতিনিধি দল

সম্মেলনে বাংলাদেশ পক্ষের ২১ সদস্যের দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন, সড়ক বিভাগ, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদল ছিল ১১ সদস্যের, যেখানে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সম্মেলন শেষে উভয়পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

কালের সসমাজ//র.ন

Side banner

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!