ইরান ইস্যুতে সংকটের স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৩ মে) সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সূত্রের কথা উল্লেখ করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তবে ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য তাদের ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। নতুন হামলার সম্ভাবনার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি শনিবার তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
সূত্রগুলোর মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিদেশে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোতে প্রস্তুত অবস্থায় থাকা সেনাদের তালিকা হালনাগাদ করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কিছু সেনা প্রত্যাহারও করা হচ্ছে, যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো যায় এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করা যায়।
এপ্রিলের শুরুতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি একে অপরের ওপর আক্রমণ থেকে অনেকটাই বিরত রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সময় তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘ট্রাম্প তার সীমারেখা খুব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন যে ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রাখতে পারবে না।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার তেহরানে গিয়েছেন এবং তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলও শুক্রবার সন্ধ্যায় তেহরানে পৌঁছেছেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দর মোমেনি। ইরনার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বুধবার থেকেই তেহরানে অবস্থান করছেন। তিনিও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কালের সমাজ/এসআর

