ঢাকা রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এবার ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’!

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২৩, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম এবার ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’!

ভারতে ‘দল’ খোলার সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরশোলা পার্টির জনপ্রিয়তা নজর কেড়েছে সারা বিশ্বের। সারা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। তবে এখন খবর, আরশোলা-জ্বর পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানেও খোলা হয়েছে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ এ‌বং ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’।

আরশোলা নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন এবং এরা খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ব্যঙ্গ হিসাবে শুরু হওয়া একটি ‘রাজনৈতিক’ আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এখন ঠিক তেমনটাই ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ওরফে সিজেপির অভাবনীয় উত্থান সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানেও বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্ম দিয়েছে। সেই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি (সিএপি)’ এবং ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ (সিএএল)’।

কিছু দিন আগে শুরু হওয়া ভাইরাল ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ আন্দোলন থেকে তৈরি হয় ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সিজেপিকে নিয়ে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে হইচই পড়েছে।

ভারতের অনেক নামীদামি ব্যক্তিত্ব, এমনকি রাজনৈতিক নেতারাও ইনস্টাগ্রামে ফলো করতে শুরু করেছেন তাদের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলটিকে। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাদের ফলোয়ারের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৪ সাল থেকে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-সহ ভারতের বেশির ভাগ মূলধারার রাজনৈতিক দলের চেয়েও ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা বেশি তাদের।

সম্প্রতি পাকিস্তানেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আদলে সে দেশের সংস্করণগুলি সমাজমাধ্যমে আবির্ভূত হতে শুরু করেছে। তার মধ্যে অন্যতম ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি (সিএপি)’ এবং ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ (সিএএল)’। প্রথম আত্মপ্রকাশ করে সিএপি-ই। ইনস্টাগ্রামে একটি পেজ খোলে তারা।

সেখানে ভারতীয় আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা খোলাখুলিভাবে স্বীকার করা হয়। ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলের বায়োতে লেখা হয়, ‘‘হ্যাঁ, নকল করেছি। কিন্তু তাতে কী! মূলমন্ত্র একই।’’

India’s Cockroach Janta Party Trend Crosses Border as Pakistan Launches Viral Cockroach-Themed Political Satire Parties

ইতিমধ্যেই ওই অ্যাকাউন্ট থেকে মিম এবং ছোট আকারের রিল পোস্ট করা শুরু হয়েছে। ফলোয়ারের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

পাকিস্তানি অ্যাকাউন্টটি জানিয়েছে, তাদের উদ্যোগ কোনও একক ব্যক্তি বা কোনও একক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তাদের লক্ষ্য পাকিস্তানে প্রত্যেক জেন-জির ‘প্রকৃত কণ্ঠস্বর’ হয়ে ওঠা। সিএপি-র লোগোটি ভারতের সিজেপি-র লোগোর মতোই। তবে তাদের লোগোয় পাকিস্তানের পতাকার সবুজ এবং সাদা রং ব্যবহার করা হয়েছে।

নিজেদের ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) বা পিএমএল-এন, এবং পাকিস্তান পিপল্‌স পার্টি (পিপিপি)-র মতো মূলধারার দলগুলির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে সিএপি। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ২৮ মে তাদের নিজস্ব আনুষ্ঠানিক ‘মূলমন্ত্র’ উন্মোচন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

অন্যদিকে ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ বা সিএএল নামে আরও একটি দল আত্মপ্রকাশ করেছে পাকিস্তানের নেটমাধ্যমে। অ্যাকাউন্টটি নিজেদের সিএএল-এর ‘সরকারি অ্যাকাউন্ট’ বলে দাবি করেছে। তাদের স্লোগান, ‘হর হালত মে জিন্দা হ্যায়’। অর্থাৎ, ‘আমরা সব পরিস্থিতিতেই বেঁচে থাকি’।

সমাজমাধ্যম এক্স-এও একই ধরনের অন্য একটি পাকিস্তানি পেজের রমরমা বাড়ছে। ‘ককরোচএপি’ নামের ওই অ্যাকাউন্টটি আবার লিখেছে, ‘‘যাদের সমাজ আরশোলা বলে মনে করেছে, আমরা তাদেরই কণ্ঠস্বর।’’

India’s Cockroach Janta Party Trend Crosses Border as Pakistan Launches Viral Cockroach-Themed Political Satire Parties

যেখানে ভারতের সিজেপি দলের প্রতিষ্ঠাতা, ইস্তেহার এবং একটি আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের শাখাগুলো অনেক বেশি খণ্ডিত। একাধিক ব্যক্তি স্বাধীনভাবে অ্যাকাউন্ট চালু করছেন। পাকিস্তানি গোষ্ঠীগুলিতে ব্যঙ্গের ছলে বেকারত্ব, শাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের হতাশা প্রকাশ করতে সহনশীলতার প্রতীক হিসাবে আরশোলার ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারতে ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ আন্দোলনের মাধ্যমে সিজেপি-এর জন্ম বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ ‘আরশোলা’র মতো আচরণ করেন বলে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন।

যদিও প্রধান বিচারপতি পরে স্পষ্ট করেন যে, তার মন্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং বেকার যুবসমাজের সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে তিনি ওই মন্তব্য করেননি।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তিনি বিশেষভাবে সেই সব মানুষের কথা বলেছিলেন যারা জাল বা ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে কোনও পেশায় প্রবেশ করেন। তিনি যুবকদের অবমাননা করেছেন বলে যে প্রতিবেদনগুলি প্রকাশিত হয়েছে তা ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

তবে দেশটির প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর অনলাইনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ সংগঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জন্ম হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির। তারা একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে নেটমাধ্যমে। শুরু হয় নেটমাধ্যমে দলের সদস্য সংগ্রহের কাজও। সিজেপি নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসাবে বর্ণনা করে, যার সদর দফতর ‘যেখানেই ওয়াইফাই কাজ করে’ সেখানেই অবস্থিত। এর আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটটি অন্য রাজনৈতিক ওয়েবসাইটের মতো নয়। মজা করে বানানো হয়েছে সেটি।

India’s Cockroach Janta Party Trend Crosses Border as Pakistan Launches Viral Cockroach-Themed Political Satire Parties

সিজেপির সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ‘যোগ্যতা’র মানদণ্ডও রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, বেকার, অলস, সারা ক্ষণ অনলাইনে থাকা এবং পেশাগত ক্ষেত্রে ক্ষোভপ্রকাশ করার ক্ষমতা থাকলে তবেই এই দলের সদস্য হওয়া যাবে। চালু হওয়ার প্রথম দু’দিনের মধ্যেই ৪০,০০০-এরও বেশি সদস্য সিজেপিতে নাম নথিভুক্ত করান। এর পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সিজেপির সদস্য এবং ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ সিজেপির সদস্যপদ ‘গ্রহণ’ করেছেন। দলে ‘যোগ’ দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, বলিউডের অনুরাগ কশ্যপ এবং কঙ্কনা সেনশর্মার মতো ব্যক্তিত্বও। দলটি একটি ভার্চুয়াল ‘জেন জি’ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করার কথা ঘোষণা করেছে এবং এটি আয়োজনে সাহায্য করার জন্য তরুণ সমাজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন সিজেপির মুখ বা নেতা কে?

ব্যঙ্গাত্মক ওই রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রে রয়েছেন অভিজিৎ দীপকে নামের এক যুবক। তার হাত ধরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম। এক সপ্তাহ আগেও বস্টনে চাকরির জন্য আবেদন করছিলেন অরবিন্দ কেজরীওয়ালের দল আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সমাজমাধ্যম কর্মী অভিজিৎ।

সপ্তাহখানেক আগে ভারতের প্রধান বিচারপতির ‘আরশোলা’ মন্তব্যের পর যখন বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ক্ষোভের জন্ম হয়, তখন অভিজিৎ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি চালু করেন। ১৬ মে সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে গুগ্‌ল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামেন তিনি। তার আন্দোলন সমাজমাধ্যম ঝড় তোলে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ এক জন ‘পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট’ বা রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ, যার কাজের মূল বিষয় হল রাজনৈতিক আখ্যান তৈরি, জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রদান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি কী ভাবে রাজনৈতিক মতামতকে প্রভাবিত করে তা দেখা।

পুণে থেকে সাংবাদিকতা নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন অভিজিৎ। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা চলে যান। তিনি বর্তমানে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যম দলে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবেও কাজ করেছেন অভিজিৎ। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেজরীওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের সময়, তিনি দলের হয়ে মিম-ভিত্তিক ডিজিটাল প্রচার চালানোর কাজ করেন, যা সে সময় দিল্লির যুবসমাজকে প্রভাবিত করেছিল বলে মনে করা হয়।

India’s Cockroach Janta Party Trend Crosses Border as Pakistan Launches Viral Cockroach-Themed Political Satire Parties

অভিজিৎ ব্যাখ্যা করেছেন, দেশের প্রধান বিচারপতির মন্তব্যটি নিয়ে অনলাইনে বিতর্ক শুরু হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার সিজেপি খোলার পরিকল্পনা মাথায় আসে। তিনি সমাজমাধ্যমে মজা করে পোস্ট করেছিলেন, “যদি সব আরশোলা একজোট হয়?” আর এর পরেই তাঁর পরিকল্পনা একটি পুরোদস্তুর ইন্টারনেট আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ দলে যোগ দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন অভিজিৎ। সেখান থেকেই চালাচ্ছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ বলেন, ‘‘আমি এক সপ্তাহ আগে একটা চাকরির জন্য আবেদন করছিলাম, আর তার পরেই এই ঘটনাটি ঘটল। হ্যাঁ, আমিই সেই আরশোলা। ভারতের প্রধান বিচারপতি ঠিক আমার কথাই বলেছিলেন।’’

সিজেপি নিজেদেরকে ‘অলস ও বেকার’ যুব সমাজের কণ্ঠস্বর হিসাবে তুলে ধরেছে এবং বাস্তব রাজনৈতিক অভিযোগের সঙ্গে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ মিশিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে দেশের উন্নত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা, উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ, পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার, শক্তিশালী সরকারি পরিষেবা এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বৃহত্তর জবাবদিহিতা। আর তাদের সেই দাবির মধ্যেই সমাজের ‘জ়েন জি’র একাংশের মধ্যে সারা ফেলেছে দলটি। ধীরে ধীরে তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে।

India’s Cockroach Janta Party Trend Crosses Border as Pakistan Launches Viral Cockroach-Themed Political Satire Parties

যদিও তবে ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা এক কোটির কাছাকাছি পৌঁছোতেই বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডলে ব্লক করে দেওয়া হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির অ্যাকাউন্ট। নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলে আবার আবির্ভূত হয় আরশোলার দল। পোস্টও করা হয় নতুন অ্যাকাউন্ট থেকে। সেই পোস্টে লেখা ছিল, ‘‘তোমরা ভেবেছিলে আমাদের থেকে মুক্তি পাবে? হা হা।’’ দলটি এখন ট্রেডমার্কের জন্য আবেদনও করেছে বলে খবর এবং দাবি করেছে যে তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক সদস্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে।

ভারতে ‘দল’ খোলার সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরশোলা পার্টির এই জনপ্রিয়তা নজর কেড়েছে সারা বিশ্বের। সারা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। তবে এখন খবর, আরশোলা-জ্বর পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!