সংগৃহীত ছবিসাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থঅ সিআইয়ের পরিচালক লিওন প্যানেটা ঘোষণা করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘অজেয় যুদ্ধে’ জড়িয়ে ফেলেছেন।
বৃহস্পতিবার সিএনএনের পামেলা ব্রাউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যানেটা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সাথে এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যা তারা জিততে পারবে না।
সাম্প্রতিক পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন যে তারা যুদ্ধটিকে ‘কোনও সন্তোষজনক ফলাফল ছাড়াই দীর্ঘায়িত হতে’ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা একটি অজেয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি যা চলতেই থাকবে, যেমন অন্যান্য যুদ্ধগুলি চলতে থাকে, কোনো সন্তোষজনক সমাপ্তি ছাড়াই।’
প্যানেটা, একজন ডেমোক্র্যাট যিনি ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিআইএ`র পরিচালক এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি অবিরাম যুদ্ধকে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের স্থায়ী "ঐতিহ্য" বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটাই সেই ধরনের ঐতিহ্য, স্পষ্ট করে বলতে গেলে, যা ২১শ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহত রেখেছে—সেটা ইরাক হোক, আফগানিস্তান হোক, বা ইরানই হোক।’
তিনি সতর্ক করে বলেন যে এই অবিরাম যুদ্ধগুলো মার্কিন করদাতাদের অর্থ শুষে নিচ্ছে, মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করছে এবং বিশ্বের বাকি দেশগুলোর কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল বলে প্রতীয়মান করছে।
প্যানেটা বলেন, ‘আমরা নিজেদেরকে অজেয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে দেখছি যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির ক্ষতি করবে এবং নিজের দূর্বলতা তুলে ধরার মধ্যদিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রাস করে’ তিনি পরোক্ষভাবে আমেরিকার আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন।
তার এই মন্তব্য এসেছে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হামলার নতুন তীব্রতার মধ্যে, সন্ত্রাসী কায়দায় যে যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল। এর মধ্যে রয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারির অতর্কিত হামলা, যাতে ৪০ দিনের যুদ্ধের শুরুতে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী শহীদ হন, সেইসাথে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অবৈধ মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং হঠকারিতার কারণে সৃষ্ট চলমান উত্তেজনা।
তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে মার্কিন বাহিনী এবং তাদের প্রক্সিদের উপস্থিতি কেবল আগ্রাসীদের দুরবস্থাকে আরও প্রলম্বিত করছে, আর এটি এমন এক সত্য যা ইরানি জাতি এবং আগ্রাসী জালিমদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অক্ষের দৃঢ় প্রতিরোধের মাধ্যমে প্রবলভাবে প্রমাণ করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের নতুন পদক্ষেপ শুরু হওয়ার পর থেকে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে নির্ভুল আঘাত হানার মাধ্যমে এই অঞ্চলে মার্কিন-পরিচালিত ঘাঁটিগুলোতে একাধিক প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে। সূত্র: ইয়াহু নিউজ
কালের সমাজ/এসআর

