ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

লাশভর্তি স্যুটকেসের সূত্রে উন্মোচিত হলো হত্যার রহস্য!

কালের সমাজ ডেস্ক | আগস্ট ৩, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম লাশভর্তি স্যুটকেসের সূত্রে উন্মোচিত হলো হত্যার রহস্য!

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে ব্রিটিশ নাগরিক এলিজাবেথ জেন রসের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী এক আফগান যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। খবার বিবিসির।

৩৮ বছর বয়সী এলিজাবেথ জেন রস, যিনি ‘লিসা’ নামেও পরিচিত ছিলেন, তার মরদেহ গত ১৮ জুলাই এথেন্সের কিপসেলি এলাকার একটি পরিত্যক্ত গাড়ি পার্কিং থেকে উদ্ধার করা হয়। একটি স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখে এক গৃহহীন ব্যক্তি পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশ জানায়, শরণার্থী ও গৃহহীন মানুষের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী কাজের সূত্রে লিসার সঙ্গে ওই আফগান যুবকের পরিচয় হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, লিসার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তোলা হয়েছিল। এই সূত্র ধরেই সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে আরও পাওয়া যায়, স্যুটকেসে ওই যুবকের আঙুলের ছাপ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে স্যুটকেসটি বহন করে পরিত্যক্ত পার্কিং এলাকায় নিয়ে যেতে দেখা গেছে। গত ৩০ জুলাই এথেন্সের একটি ঠিকানা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পর লিসার মরদেহ স্যুটকেসে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়। পরে তার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তোলা হয়। অভিযুক্তের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি নকল পিস্তল ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Afghan national, 26, is arrested after body of British woman found in  Athens suitcase | Daily Mail Online

লিসা গত সাত বছর ধরে নিয়মিত গ্রিসে যাতায়াত করতেন। তিনি শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন। গ্রিসের ‘ওয়ান হার্ট’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন, যারা আফগানিস্তান ও ইরান থেকে আসা শরণার্থীদের চিকিৎসাসহায়তা দিয়ে থাকে।

গত ২৬ জুন তিনি এথেন্সে পৌঁছান এবং কেরাতসিনি এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ১৫ জুলাই তিনি পরিচিত কয়েকজন মার্কিন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এর প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মৃত্যুর পরও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে জীবিত দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তার বাবার কাছে ১৫ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হয়। পরে ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!