ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম ‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত নির্বাচন হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তবে নারী প্রার্থীর স্বল্পতা, বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার এবং কিছু প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছে মিশনটি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তব প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবায়ন করা আইনি কাঠামোর আওতায় আয়োজিত এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। মৌলিক স্বাধীনতার চর্চাও মোটামুটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।


তবে ইইউ মিশনের প্রধান জানান, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা, অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং নারীদের সীমিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত রাজনৈতিক পরিসর না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও নির্বাচনী আইন কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার উপযোগী, তবে আইনি নিশ্চয়তা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতে সংস্কার প্রয়োজন।


তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তবে প্রচারণা বিধি সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে ইইউ মিশন সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, প্রায় সাড়ে আট লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং নির্বাচন উপকরণ বিতরণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রবাসে থাকা প্রায় সাত লাখ ৭০ হাজার ভোটার ডাকযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী ও সীমিত চলাচলক্ষম ভোটারদের জন্য সহজগম্য ছিল না বলে মন্তব্য করা হয়।

 

ভোট গণনা ও ফল সংকলন প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে দক্ষ হলেও কিছু ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা রক্ষার নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ হয়নি বলে জানানো হয়। তিনটি ঘটনায় ফল সংকলন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত ফল প্রকাশ জনআস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ৬০০-এর বেশি আপিল নিষ্পত্তি এবং দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী পুনর্বহালকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছে ইইউ মিশন। দুই হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেওয়ায় ভোটাররা বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্প পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করা হয়।

নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র চার শতাংশ হওয়াকে বড় হতাশা হিসেবে উল্লেখ করে ইভার্স ইজাবস বলেন, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহনন নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ইইউ পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যাতে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নারী প্রচারকর্মীদের হয়রানি ও সম্পত্তিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়।

অনলাইন প্রচারণা প্রসঙ্গে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৩০টি ভুয়া তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছে। ফ্যাক্ট-চেকিং উদ্যোগ সক্রিয় থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল ধীর।

নাগরিক সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে ইইউ মিশন জানায়, ৮১টি নাগরিক পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত ছিল এবং তরুণদের অংশগ্রহণ ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

 

Side banner
Link copied!