ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহজালাল মাজারের সিলগালা ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনায় নতুন সিদ্ধান্ত

জেলা প্রতিনিধি,সিলেট | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম শাহজালাল মাজারের সিলগালা ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনায় নতুন সিদ্ধান্ত

সিলেটের হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও স্থাপন করা দানবাক্সের টাকা এখন থেকে প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। এ ছাড়া এই অর্থ ব্যবস্থাপনা ও মাজারের সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে একটি কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির সভায় এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জেলা প্রশাসক বলেন, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে রাখা হবে। হিসাবটি জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে খরচ করা হবে।

তিনি জানান, অর্থ গণনা ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তাকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে। এ ছাড়া একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেয়া হবে।

মাজারের সার্বিক পরিচালনায় ৭ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। জেলা প্রশাসক এই কমিটির আহ্বায়ক হবেন। কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ এবং পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্য সচিব এবং নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজার সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এই কমিটি।

এর আগে, মাজারের দানবাক্সের অর্থ নিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ ও পরবর্তী বিতর্কের পর গত ২৩ জুন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে মাজার পরিচালনার জন্য যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেয়ার কথা থাকলেও, প্রায় আড়াই মাস পর কমিটি এসব সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় গণনা করে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। এর আগে ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় পাওয়া গিয়েছিল প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা। ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা এবং ২২ জুন প্রথম দফায় চার দিনের প্রাপ্তি হিসেবে পাওয়া যায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!