ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
সাইবার আইনের খসড়া

‘যাচাই না করা’ সংবাদে সাংবাদিকদের ১০ বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম ‘যাচাই না করা’ সংবাদে সাংবাদিকদের ১০ বছরের জেল

‘যাচাই না করা’ তথ্য বা সংবাদ প্রকাশের অপরাধে সাংবাদিকদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

গত (১৫ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সিপিজে বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা ব্যাপকভাবে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত আইনে এমন সংবাদ প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, যা কর্মকর্তারা ‘যাচাইহীন’ বলে মনে করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাজ বন্ধ এবং সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতাও দেয়া হতে পারে।

সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নির্বাচিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে একটি পরামর্শ সভা করে। সেখানে আলোচিত খসড়া সংশোধনীতে অনলাইনে ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর জন্য নতুন অপরাধের বিধান রাখা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা বড় অঙ্কের জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনের বর্তমান রূপ অনুযায়ী, কোনো অনলাইন কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ‘অপ্রমাণিত বা যাচাইহীন’ মনে হলে এবং তা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা অস্থিরতা তৈরি করলে সেটিকে আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এসব মামলার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে।

এ ছাড়া কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে আইনের লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হলে আদালত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো এতটাই বিস্তৃত যে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত, এমনকি সেই তথ্য কর্তৃপক্ষ অনুমোদন না করলেও।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালীব রহমান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ঠেকানো এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যেই সংশোধনীগুলো আনা হয়েছে।

সিপিজে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাইবার অপরাধের আইন ব্যবহারের নজির বাংলাদেশে রয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনলাইন বক্তব্য ও ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অন্তত ২৫৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ওই আইনে অভিযুক্ত লেখক মুশতাক আহমেদ নয় মাস বিচার-পূর্ব আটক থাকার পর কারাগারে মারা যান।

প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে মন্তব্য জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!