ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

মিসরের অভিযোগে কি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বেন রেফারিং দল?

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ৯, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম মিসরের অভিযোগে কি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বেন রেফারিং দল?

শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ পরিচালনা করা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে, তার সহকারী এবং ভিএআর (ভিএআর) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর ভুলের অভিযোগ তুলেছে মিশর। তাদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের কারণেই তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। তাই বাকি বিশ্বকাপ থেকে লেতেক্সিয়ে ও তার পুরো রেফারিং দলকে সরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশর।

ফ্রান্সের বিখ্যাত ক্রীড়া গণমাধ্যম লেকিপে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো দেশের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো রেফারিকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপে কোন রেফারি দায়িত্ব পালন করবেন, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ফিফার রেফারিজ কমিটির হাতে। তবে প্রতিটি ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও লেতেক্সিয়ের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। তার প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, ম্যাচ রিপোর্ট এবং বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর ভিডিও বিশ্লেষণ করে ফিফা সিদ্ধান্ত নেবে তিনি টুর্নামেন্টে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন কি না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে লেতেক্সিয়ের পারফরম্যান্সের কারণে তাকে অবিলম্বে বাদ দেয়া হবে; এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বিশ্বকাপে দীর্ঘদিনের একটি অলিখিত নিয়ম হলো, কোনো দেশের দল কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার পরের ধাপে উঠলে সেই দেশের রেফারিদের পরবর্তী ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, যাতে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে। সে হিসেবে যদি ফ্রান্স মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে ফরাসি দুই রেফারি; ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ক্লেমঁ তুরপাঁর পরবর্তী দায়িত্ব পাওয়া কঠিন হতে পারে। 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগেও বিভিন্ন দেশ রেফারিং নিয়ে অভিযোগ তুলেছে। তবে কোনো দেশের আপত্তির কারণে সরাসরি কোনো রেফারিকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়ার নজির নেই। যদিও খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে রেফারিদের আর ম্যাচ না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এর অন্যতম উদাহরণ ২০০২ সালের বিশ্বকাপ। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ইতালি ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়ার পর ইকুয়েডরের রেফারি ব্রায়ান মোরেনোর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে ইতালি। অতিরিক্ত সময় নিয়ে তার সিদ্ধান্তসহ একাধিক বিতর্কিত রায় ম্যাচটির ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই বিশ্বকাপে আর কোনো ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি মোরেনো। যদিও ফিফা কখনোই বলেনি যে ইতালির অভিযোগের কারণেই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে ব্রায়ান মোরেনো কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। 

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ক্লেমঁ তুরপাঁ; দুজনেরই ব্যাপক সুনাম রয়েছে। যদিও ফ্রান্সে তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিতর্ক হয়, তবুও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তারা অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে বিবেচিত। লেতেক্সিয়ে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন, যেখানে স্পেন ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। একই বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান ফেডারেশন তাকে বিশ্বের সেরা রেফারি নির্বাচিত করে। আর ২০২৫ সালে এই স্বীকৃতি পান ক্লেমঁ তুরপাঁ, যেখানে লেতেক্সিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!