ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৬১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৯:৪৭ এএম গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৬১

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের লাগাতার বিমান হামলায় একদিনে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মানবিক সহায়তা সংগ্রহের পথে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন সাধারণ মানুষ। এছাড়া অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন আরও চারজন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলায় গাজার রাজধানী নগরীর পূর্ব ও দক্ষিণ অংশে তীব্র বোমাবর্ষণ চালানো হয়।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজা নগরী দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি উপত্যকার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র, যেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এ অভিযান ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হবে এবং আরও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, গাজা নগরীতে সেনা অভিযান শুরু হলে তা যুদ্ধের এক “ভয়াবহ নতুন অধ্যায়” হয়ে উঠবে। তিনি মন্তব্য করেন, “এটি মূলত ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের ফল, যা মানবিকতার পরিপন্থি।”

বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হাজারো পরিবার ঘর ছেড়ে উপকূলীয় এলাকায় পালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় শুজাইয়া, জায়তুন ও সাবরা এলাকায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়। শুধু জায়তুনের দক্ষিণাংশেই অন্তত দেড় হাজার বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, তারা যোদ্ধাদের অবস্থান ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত তিনজন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে খানের ইউনিসে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক মা ও তার শিশুও রয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়া কয়েকজন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে, জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। তারা বলেছেন, “ক্ষুধার্ত মানুষকে গুম করা কেবল উদ্বেগজনকই নয়, বরং নির্যাতনের শামিল।”

অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুই শিশুসহ চারজন অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন। চলমান যুদ্ধে ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৭ জনে, এর মধ্যে ১২১ শিশু।

আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজযুম দেইর আল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি ভয়াবহ। পরিবারগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র গরমে খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছে। অনেকেই আবার জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ত্রাণকেন্দ্রে ভিড় করছে।”

 

কালের সমাজ/এ.স/এ.জে

Side banner
Link copied!