গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। গতকাল শুক্রবার হামলার পর দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণার পর রাত সাড়ে ১১টায় রাজশাহী নগরীতে বিক্ষোভ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির অফিস ভাংচুর করে। অগ্নিসংযোগ করা হয় জাপার সাইনবোর্ডে।
আজ শনিবার সকাল থেকেও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। চলছে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, সভা, সমাবেশ। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী।
বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে চরম যানজোটের সৃষ্টি হয়।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশের করেন। এসময় বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন, ‘ছাত্র নাগরিক জনতা, গড়ে তুল একতা’, ‘জুলাইয়ে হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘ফ্যাসিবাদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘ভিপি নুর আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “বাহ ইউনুস চমৎকার, জাতীয় পার্টির পাহারাদার’ ইত্যাদি।
সমাবেশে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, জাতীয় পার্টি ও উত্তরপাড়ার জলপাই টুপিওয়ালাদের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় পার্টির ছায়াতলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ নুরের ওপর যে হামলা ও নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে, তার দায়ভার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, নুরুল হক নুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি ২০১৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একা নিরন্তর লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর ওপর ভয়াবহ আক্রমণ আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। যদি একজন রাজনৈতিক প্রধানের ওপর এমন হামলা হতে পারে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রাম পর্যায়ে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা অনুধাবন করা কঠিন নয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ।
এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রা সাড়ে ১১টায় গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোখ মিছিল করে। তারা রাজশাহী মহানগর গণকপাড়ায় অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। জাপার কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে সাউনবোর্ড খুলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
কালের সমাজ//র.ন
আপনার মতামত লিখুন :