ভরা মৌসুমে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ না পাওয়ায় শরীয়তপুরের নদীপাড়ের জেলেরা হতাশায় পড়েছেন। জেলে পরিবারগুলো প্রধানত ইলিশের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু জালে মাছ না উঠায় তারা অর্থনৈতিক চাপে রয়েছেন।
গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরের নাছির হাওলাদার জানান, গত ১১ দিন ধরে ১০–১২ জনের জেলে বহর মাছ ধরার চেষ্টা করছে, কিন্তু নদীতে ইলিশ না পাওয়ায় খরচও উঠছে না। জেলার মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর থেকে গোসাইরহাটের কোদালপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদী ইলিশের প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। তবুও ভরা মৌসুমে জেলেরা শূন্য হাতে ফিরে আসছেন।
শরীয়তপুরে প্রায় ২১ হাজার জেলে পরিবার ইলিশের উপর নির্ভরশীল। অধিকাংশ জেলে ঋণগ্রস্ত। জালে মাছ না ওঠায় পরিবার-পরিজনও দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেকেই নতুন পেশার সন্ধানে বিভিন্ন কাজে নামছেন।
নদীপাড়ের আড়তগুলোতেও ইলিশ নেই। নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, ভেদরগঞ্জ উপজেলার গৌরাঙ্গ বাজার, সখিপুরের বালার বাজার ও গোসাইরহাটের কোদালপুর আড়তে পাইকারদের ভিড়ও নেই। আড়ৎদাররা জানান, জেলেদের দেওয়া অগ্রিম ৫০–৬০ লাখ টাকার পরিমাণও ফেরত নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
কিছু জেলে ১–২টি ইলিশ ধরলেও বড় ইলিশের কেজি দরে ২–২.৫ হাজার টাকা পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
কালের সমাজ//র.ন
আপনার মতামত লিখুন :